মাত্র সপ্তাহ দু'য়েক আগেও পরিস্থিতিটা এত অস্বস্তিকর ছিল না আলেজান্দ্রো মেনেন্দেস গার্সিয়ার জন্য। কিন্তু পর পর দুই ম্যাচে বিশ্রী হার, বোরহার ফিরে যাওয়া, সবমিলিয়ে কলকাতায় আসার পর সম্ভবত সবথেকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলের দায়িত্ব সামলে আসা অভিজ্ঞ কোচ। সেই অভিজ্ঞতা আছে বলেই হয়তো এবারের আই লিগের সম্ভবত সবথেকে কঠিন ম্যাচের আগেও দলকে আড়াল করছেন স্প্যানিশ বস। সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলছেন, নিজের ফুটবলারদের উপরে ভরসা রয়েছে তাঁর। 

স্প্যানিশ কোচ যাই বলুন না কেন, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা কিছুতেই ভরসা পাচ্ছেন না। দলের অধিকাংশ ফুটবলারের যা পারফরম্যান্স, তাতে ডার্বির আগে রীতিমতো আতঙ্কে ভুগছেন লাল হলুদ সমর্থকরা। এখনও তাংদের কাছে ভরসার মুখ সেই আলেজান্দ্রোই। এই বিপুল প্রত্যাশার চাপ নিয়েই এ দিন যুবভারতীতে নামতে হবে লাল হলুদের হেড স্যরকে। ডার্বিতে এখনও পর্যন্ত তাঁর দুরন্ত রেকর্ড তিনি অক্ষত রাখতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার। 

অন্যদিকে পর পর পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত অবস্থায় এবং লিগ শীর্ষে থেকে রবিবারের ডার্বি খেলতে নামছে মোহনবাগান। শেষ ম্যাচে জয় না পেলেও পঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচেও এক পয়েন্ট পেয়েছে দল। তাঁর আগে কাশ্মীরে গিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দুর্দান্ত জয় পেয়েছিল কিবু ভিকুনার ছেলেরা। ফলে দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। এটিকে-র সঙ্গে সংযুক্তিকরণের পর ক্লাবের পরিবেশেও স্বস্তির হাওয়া। তাই অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়েই ডার্বিতে দল নামাতে পারবেন আর আলেজান্দ্রোর স্বদেশীয় কিবু। এটিকে মোহনবাগান সংযুক্তিকরণের পর আগামী মরশুমে তাঁর ছাঁটাই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই নিজেকে প্রমাণ করতে আরও মরিয়া হবেন তিনি। 
কিবুকে সবথেকে বেশি ভরসা দিচ্ছেন মাঝমাঠের তারকা বেইতিয়া। গোটা দলটাকেই যেন খেলাচ্ছেন তিনি। নতুন স্ট্রাইকার পাপা বউবা দিয়েরা এখনও গোল না পেলেও তিন পয়েন্ট ঘরে তুলতে সমস্যা হচ্ছে না বাগানের। কারণ কখনও বেইতিয়া, কখনও ফ্রান গঞ্জালেস আবার কখনও নওরেম, কেউ না কেউ ঠিক কাজের কাজটা করে দিচ্ছেন। এমন কী, ইন্ডিয়ান অ্যারোজ ম্যাচে যখন কেউ গোল পাচ্ছেন না, তখন গোল করে দলকে জিতিয়েছেন ডিফেন্ডার সাইরাস। 

আরও পড়ুন- পেশাদারিত্বের সঙ্গে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন, পথচলা শুরু এটিকে মোহনবাগান এফসি-র

বাগান কোচ কিবুর কাছে স্বস্তির কারণ যতগুলি, ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেজান্দ্রোর চিন্তার কারণ তার থেকে অনেক বেশি। একে তাঁর বেছে আনা স্ট্রাইকার মার্কোস গোল করতে প্রায় ভুলে গিয়েছেন। মাঝমাঠে প্রত্যাশার ধারেকাছে পৌঁছতে পারছেন না কাসিম, ডিকারা। আর সবথেকে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্তি ক্রেস্পিদের রক্ষণ। আগের ম্যাচে গোকুলমের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর মোহনবাগান আক্রমণের ঝড় কীভাবে লাল হলুদ রক্ষণ সামলায়, তা নিয়ে উদ্বেগে ইস্টবেঙ্গল শিবির। আই লিগের লড়াইতে ফিরতে গেলে ভীষণভাবে জয় দরকার কোলাডো- জুয়ান মেরাদের। লাল হলুদ কোচের ভরসাও মাঝমাঠের এই দুই আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়। কিন্তু দলের যা অবস্থা তাতে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ইস্টবেঙ্গল কোচের কাছে কেউ বিশেষ অভিযোগ করবেন না। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলকে এমন কোণঠাসা অবস্থায় পেয়েও জিততে না পারলে শেষ পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থাকার স্বস্তিটা হয়তো কিছুটা হলেও উধাও হয়ে যাবে সবুজ মেরুন শিবির থেকে।