‘সবাই জানে আমি আমার ডায়েট নিয়ে কতটা সচেতন, তাই সেদিন আমি যখন মিষ্ট খাচ্ছিলাম তখন সবাই আমার ছবি তুলেছে।’ মজার ছলেই কথাগুলো বলছিলেন তিনি। ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী কাতার ম্যাচে শরীর অসুস্থ থাকায় মাঠে নামতে পারেননি। মাঠে নেমে লড়াই করতে না পারলেও মানসিক ভাবে তিনি ছিলেন গুরপ্রীতদের সঙ্গে। তাই দল ৯০ মিনিট লড়াই করে যখন মাঠ থেকে উঠে আসছে, সুনীল হোটেলের ঘরেই চিত্কার করেছেন, দল হোটেলে ফেরার পর সেই চিত্কার আরও বেড়েছে। এতটাই উত্তজিত ছিলেন ভারত অধিনায়ক যে সেদিন তার গলা ভেঙে যায়। 
তখনই সুনীলের মনে হয়েছিল ‘আজ তো মিঠা বানতা হ্যায়।’ তিন বছর পর তাই মিষ্টির দিকে হাত বাড়িয়ে ছিলেন অধিনায়ক সুনীল। আর সেটা দেখে দলের অন্য সদস্যরা সুনীলের ছবিও তুলতে শুরু করেন। 

কাতারের বিরুদ্ধে মাঠে থাকতে না পারাকে একটা মানসিক অত্যাচার বলেই মনে করছেন সুনীল ছেত্রী। অসুস্থ ছিলেন তাই কিছু করার ছিল না, কিন্তু টিভির পর্দা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরাননি। ‘এক-একটা মিনিট যেন আমার কাছে এক-একটা ঘন্টা ছিল।’ বলছেন গর্বিত ভারত অধিনায়ক। কাতার ম্যাচ ড্র করার পর পয়েন্ট টেবিলে যে ভারত এখনও সবার শেষে। পয়েন্ট মাত্র এক। সুনীলের মতে এক পয়েন্টটা বড় কথা নয়, দল ওমানের কাছে হারের পর দোহার মিটাতে কাতারের বিরুদ্ধে যে ভাবে ফিরে এসেছে সেটাই বড়। এই মানসিকতাটাই আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে তাঁর দলকে, মত ভারতীয় ফুটবলের পোস্টার বয়ের। 

ইগর স্টিমচেও মুগ্ধ সুনীল। ভারত অধিনায়ক বলছেন, টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিকাল বিষয় গোটা দেশ দেখতে পারছে, কিন্ত মানসিক ভাবেই স্টিমাচ দলকে যে ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সেটার প্রশংসা করছেন সুনীল। স্টিমাচের কাছে কেউ তারকা নয়, যে অনুশীলনে ভাল পারর্ফম করবে সেই, প্রথম দলে সুযোগ পাবে।  সুনীল বলছেন, ‘আমার মনে আছে সেই দিনটার কথা, যখন স্টিমাচ বলেছিল, সুনীল ছেত্রীকেও প্রথম দলে নিজের জায়গা করে নিতে হবে।’ ভারত অধিনায়কের মতে একটা একটা কাতার ম্যাচই শেষ নয়, এখনও অনেক চমক বাকি আছে। কোচকে প্রশ্ন করলেও একই উত্তর পাবেন। আমাদের এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি। বলছেন সুনীল ছেত্রী।