কেরিয়ারের শুরু থেকেই লিওনেল মেসির তুলনা করা হতো দিয়াগো মারাদোনার সঙ্গে। তাবড় তাবড় ফুটবল বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন মেসির বল কন্ট্রোল, ড্রিবলিং, বাঁ পায়ের জাদু  সব কিছুই মারাদোনার মত। এমনকি মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার বিশ্বখ্যাত গোল যা 'হ্যান্ড অফ গড' নামেও পরিচিত, সেই গোলেরও অনেকটা একইরকম ঝলক দেখা গিয়েছিল ২০০৭ সালে কোপা দেল রে-র ফাইনালে লিয়ো মেসির গোলে। যদিও সবমময়  অগ্রজকেই শ্রেষ্ঠ মেনে এসেছেন লিও।

বুধবার গোটা বিশ্বকে মুহূর্তের মধ্যে নাড়িয়ে দিয়েছিল মারাদোনার প্রয়াণের খবর। শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে ফুটবল থেকে শুরু করে গোটা ক্রীড়া জগৎ।  দিয়েগোর মৃত্যুর খবর শোনার পর ভেঙে পড়েছেন মেসিও। সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন,'আর্জেন্তিনার প্রতিটি মানুষ এবং ফুটবলের জন্য আজ অত্যন্ত দুঃখের দিন। দিয়েগো আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের ছেড়ে কখনও যাবে না দিয়েগো। কারণ ও চিরন্তন। দিয়েগোর সঙ্গে যে সব সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছি, তা আমার স্মৃতিতেই থাকবে। দিয়েগোর পরিবার ও বন্ধুদের সমবেদনা জানাই।' ২০১০ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনার কোচের ভূমিকায় ছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র। সেই সময় মেসিকে আগলে রেখেছিলেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকের চাপও নিজেই সামলাতেন, মেসিকে খোলা মনে খেলার জন্য। যদিও সেই বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্ন শেষ হয়েছিল মারাদোনার। এছাড়াও মেসি-মারাদোনার একসঙ্গে কাটানো বহু স্মৃতি রয়েছে। যা আজ ব্যথিত করে তুলেছে আধুনিক ফুটবলের জাদুকরকে।

মারাদোনার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আরেক ফুটবল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও। মারাদোনাকে সবসময় নিজের বন্ধু মানতেন সিআরসেভেন। মারাদোনার প্রয়াণের খবরে ভেঙে পড়েছেন তিনিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো লিখেছেন,'আজ আমি এক বন্ধুকে বিদায় জানাচ্ছি আর সারা বিশ্ব বিদায় জানাচ্ছে এক চিরকালীন প্রতিভাকে। সর্বকালের সেরা একজনকে। এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী জাদুকরকে। বড় তাড়াতাড়ি তাঁকে চলে যেতে হল, কিন্তু এক সীমানাহীন উত্তরাধিকারকে তিনি রেখে গেলেন। তাঁর শূন্যতা কখনও পূরণ হওয়ার নয়। হে শ্রেষ্ঠ, তুমি শান্তি লাভ কর। তোমাকে কখনও ভোলা যাবে না।'

মারাদোনার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন আধুনিক ফুটবলের আরও এক তারকার ব্রাজিলের নেইমার জুনিয়র। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন,‘তোমাকে কখনও কেউ ভুলতে পারবে না। ফুচবল তোমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। শান্তিতে ঘুমোও কিংবদন্তি।’