কলকাতা লিগের খেতাব ধরে রাখতে বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল মোহনবাগানের কাছে। কিন্তু সেই ম্যাচেই ধাক্কা খেয়ে বসল কিভুর দলের যাত্রা। অবনমনের আওতায় থাকা রাজদীপ নন্দীর এরিয়ান ২-১ হারিয়ে দিল সবুজ মেরুনকে। একই সঙ্গে জমে গেল কলকাতা লিগের চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই। কল্যাণীর পয়া মাঠে নামার আগের দিনই বাগান কোচ বলেছিলেন তিনি প্রতিপক্ষকে ভয় করেন না। ভয় পান নিজেদের। তাঁর মতে লিগের দৌড়ে বাগানের প্রতিপক্ষ মোহনবাগান নিজেই। কিভুর কথা ম্যাচে যে এভাবে দেখা যাবে সেটা বোধহয় কেউই ভাবেননি। স্কোর বোর্ড বলছে এরিয়ান ও মোহনবাগানের খেলার প্রথমার্ধ গোলশুন্য। কিন্তু  এই ৪৫ মিনিটেই যে ম্যাচটা শেষ করে দিতে পারত মেরিনার্সরা। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও তা হেলায় হারালেন সালভা চামারোরা। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন বাগান কোচ কিভু। ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়ে তিনটি পরিবর্তন করেন তিনি। কিন্তু ফল তাঁর দলের হয়ে কথা বলেনি। 

ম্যাচের ৬১ মিনিটে এরিয়ানের বিদেশি ফুটবলার গ্যাচের শট আটকাতে পারেননি বাগান গোলকিপার। এগিয়ে যায় রাজদীপের দল। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে এরিয়ানের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন সন্দীপ ওরাঁও। তখনই যেন সব আশা শেষ হয়ে যায। কল্যাণীর মাঠে ডুবন্ত নৌকাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন তরুণ ফুটবলার শুভ ঘোষ। ৮৯ মিনিটি একটি গোল শোধ করেন তিনি। ইনজুরি টাইমে আরও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন শুভ, কিন্ত গোল করে দলকে এক পয়েন্ট এনে দিতে পারেননি তিনি। কল্যাণীর পয়া মাঠে এতদিন মসৃণ ভাবেই এগিয়েছিল পাল তোলানৌকা, কিন্তু রাজদীপের দল আচমকাই থমকে দিল কিভুর দলকে। 
বৃহস্পতিবার দুই বড় দলেরই খেলা ছিল, ইস্টবেঙ্গল জেতায় লিগের দৌড়ে তারা আবার এগিয়ে গেল। বর্তমানে ৭ ম্যাচে মোহনাবাগনের পয়েন্ট যেখানে ১১, সেখানে ৭ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট লাল হলুদের। লিগের তৃতীয় স্থানে ইস্টবেঙ্গল। পঞ্চম স্থানে মোহনবাগান। কিভুর দলের পরবর্তী ম্যাচ রেনবো এফসির বিরুদ্ধে রবিবার। খেলা হবে কল্যাণী স্টেডিয়ামেই।