যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কালকে রাতের ম্যাচ ভুলে যেতে চাইবেন রাফায়েল ভারান। রিয়াল মাদ্রিদ বনাম ম্যানচেস্টার সিটির দ্বিতীয় পর্বের খেলায় ছিলেন না সের্জিও র‍্যামোস। গোটা মরশুমে দলের অধিনায়কের সঙ্গে মিলে রাফায়েল ভারানের সামলে রেখেছিলেন রিয়ালের রক্ষণভাগ-কে। কাল সকলের আশঙ্কা ছিল ভারানের সঙ্গী এডার মিলিতাও-কে নিয়ে। কিন্তু বাস্তবটা ছিল অনেকটাই অন্যরকম। মিলিতাও দুর্দান্ত খেললেও ভুল করলেন ভারানই, একবার নয়, দুইবার। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুইবারই গোল করলো ম্যানচেস্টার সিটি। রক্ষণের ভুলের চড়া মাশুল দিয়ে জিনেদিন জিদান পেলেন ক্যারিয়ারের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম নক আউট টাই হারের গ্লানি। ঘরের মাঠের মতো এতিহাদেও পেপ গুয়ার্দিওলা টপকে গেলেন জিদানকে। একটানা তিন মরশুম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে টানা দুই মরশুম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে ছিটকে গেল বেনজেমারা। 

আরও পড়ুনঃঅনবদ্য রোনাল্ডো, লিওনের অ্যাওয়ে গোলের কাঁটায় বিদায় বিদায় নিল জুভেন্তাস

কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে গেলে রিয়ালকে দুই গোলে জিততে হতো। আক্রমণে বেনজেমার সাথে হ্যাজার্ড এবং তরুণ ব্রাজিলিয়ান রদ্রিগো-কে জুড়ে দিয়েছিলেন জিদান। সিটির রক্ষণ নিয়ে যে খুব স্বস্তিতে ছিলেন সেই দলের ম্যানেজার পেপ গুয়ার্দিওলাকে, তেমনটাও না। কিন্তু সেই চাপ কেটে গেল রিয়াল মাদ্রিদ রক্ষণের ভুলে। ভারানের প্রথম ভুলটা হয় চাপে। একেবারে নিচ থেকে বিল্ড আপ করে ওঠার চেষ্টা করছিল রিয়াল। সেই সময় ক্রমাগত প্রেস করে যাচ্ছিলেন রহিম স্টার্লিং, গ্যাব্রিয়েল জেসুসরা। ব্রাজিলিয়ান জেসুসের প্রেসের চাপে বল হারান ভারান। জেসুস কাটব্যাক করেন গোলের সামনে থাকা স্টার্লিংকে। এদের মিলিতাও-এর ঝাঁপিয়ে পড়া শরীরের তলা দিয়ে বল গড়িয়ে দিয়ে সিটি কে এগিয়ে দেন স্টার্লিং। ম্যাচের বয়স তখন ১০ মিনিটও হয়নি। 

আরও পড়ুনঃভারতের জাতীয় হকি দলে করোনার থাবা, আক্রান্ত অধিনায়ক মনপ্রীত সিং সহ ৫

আরও পড়ুনঃকরোনা আক্রান্ত হয়েছেন ব্রায়ান লারা, আসল সত্যিটা জানালেন ক্রিকেটের রাজপুত্র

এরপর রিয়াল কিছুতেই ম্যাচ ধরতে পারছিল না। তার মধ্যেই ২৯ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে দারুণভাবে ক্রস রাখেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ রদ্রিগো। তার সঙ্গের তিন ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়ে অসাধারণ হেড করে রিয়ালকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন বেনজেমা। প্রথমার্ধে গতির বিরুদ্ধে এই গোল রিয়াল মাদ্রিদের। প্রথমার্ধতে নিঃসন্দেহে দাপট ছিল সিটির। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই ঝাঁঝ বাড়ায় আক্রমণের। থিবো কুর্তুয়ার দক্ষতায় ম্যাচে টিকে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর ৬৮ মিনিটে আবার ভুল ভারানের।  ভারানের কাছে ওই সময় উড়ে এসেছিল একটি ব্যাকপাস। প্রথম দফায় হেডে বলের নাগাল মিস করে গেলেন তিনি। এরপর ফের হেডে ব্যাক পাস দিতে গেলেন কুর্তুয়াকে, কিন্তু সেই হেডটি দুর্বল হওয়ায় পেছন থেকে জেসুস দৌড়ে এসে গোলরক্ষক বল ধরার আগেই পা ছুঁয়ে বুদ্ধিদীপ্ত টাচে ২-১ ফলে এগিয়ে দেন সিটিকে। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মাদ্রিদ।