ভারতের সর্বোচ্চ লিগ আইএসএলে খেলার দিকে অনেকটাই এগিয়েছে লাল-হলুদ। প্রস্তুতি যে পথে এগোচ্ছে তাতে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অগস্টের গোড়ায় এ ব্যাপারে সরকারি ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। আর এই খবর শুধুমাত্র ইস্টবেঙ্গল ভক্তদের জন্য নয় সকল ভারতীয় ফুটবল ভক্তদের জন্য ভালো খবর কারণ এটিকে মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গলের লড়াইয়ের জেরে সমৃদ্ধ হবে আইএসএল। আইএসএলের মূখ্য চেয়ার পার্সন নীতা অম্বানিও চাইছেন ইস্টবেঙ্গল এই বারই তাদের প্রতিযোগিতায় খেলুক। বঙ্গসমর্থকদের গর্বের ডার্বি না হলে এ দেশের ফুটবল যে ফিকে হয়ে যাবে তা মেনে নিচ্ছেন নীতার কোম্পানি এফএসডিএলের সকল কর্তারাও।

আরও পড়ুনঃঘোষিত হয়েছে আইপিএলের দিন, গর্জনের অপেক্ষায় মহেন্দ্র 'সিংহ' ধোনি

আগের বিনিয়োগকারী সংস্থা কোয়েসের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রায় তৈরি করে হয়ে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলে। আগের বিনিয়োগকারী কোয়েসের রেখে যাওয়া বকেয়া মেটানোর দায়ভার তারাই নেবে জানিয়ে ইস্টবেঙ্গলের চিঠি বুধবারই চলে গিয়েছে দিল্লির ফুটবল হাউস এবং এএফসি দফতরে। ফুটবলারদের বকেয়া পেমেন্ট-সহ প্রায় সাত কোটি টাকা প্রয়োজন রয়েছে সেই কাজ সম্পূর্ণ করতে। লাইসেন্সিংয়ের জন্য অস্থায়ী একজন সিইও হিসাবে কর্মসমিতির সদস্য সৈকত গাঙ্গুলি-কেও নিয়োগ করে ফেলেছেন কর্তারা। ফলে লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা আর নেই বললেই চলে। ক্লাব সূত্রের খবর, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের নামেই কোম্পানি করে তা নথিভুক্ত করা হচ্ছে ফেডারেশনে। কোয়েসের কাছ থেকে এনওসি আদায় এবং লাইসেন্সিংয়ের দুটি বড় বাধা কেটে যাওয়ার পর এখন লাল-হলুদ জার্সির আইএসএল খেলা শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে দাবি করছেন কর্তারা। কিন্তু প্রশ্ন হল, আইএসএল খেলতে হলে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন তা দেবে কারা, কারাই বা হবেন কোম্পানির ১০০ শতাংশ শেয়ারের অংশীদার?

আরও পড়ুনঃফিট ও ফর্মে থাকলে কেনও খেলা ছাড়বেন ধোনি, প্রশ্ন গম্ভীরের

ক্লাব কর্তারা এ ব্যাপারে একেবারেই মুখে খুলছেন না। ক্লাবের শীর্ষকর্তা এবং পুরো বিষয়টির দায়িত্বে থাকা দেবব্রত সরকার অত্যন্ত জোরাল গলায় বলে দিয়েছেন যে ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলবেই। ঠিক সময়ে তারা সব কিছু জানিয়ে দেবেন। তবে তিনি বলতে চাননি করোনার বাজারে ৪০ কোটি টাকা দেবে কে। লাল-হলুদ কর্তারা মুখে কিছু না বললেও আন্দাজ করা হচ্ছে প্রবাসী বঙ্গসন্তান  প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের কোম্পানি ইউনিভার্সাল সাকসেস এন্টারপ্রাইস-ই ৪৫ শতাংশ শেয়ার নিতে চলেছে ইস্টবেঙ্গলের। পাঁচ বছরের জন্য তারাই হচ্ছে ক্লাবের মুখ্য ইনভেস্টর। এখন শুধু সরকারি ভাবে এই খবরের ঘোষণা হওয়ার অপেক্ষা। ইস্টবেঙ্গলের নতুন জার্সিতে থাকতে পারে "ফুড চেইন টিজিআই ফ্রাইডেস"-এর লোগো। এছাড়া বাকি ৪৫ শতাংশ শেয়ার থাকবে শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের কাছে। শেয়ারের বাকি দশ শতাংশ চার ভাগে ভাগ করা হবে প্রণব দাশগুপ্ত, কল্যাণ মজুমদার, সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় ও বীরেন সাহার মধ্যে। মিডিয়া ম্যানেজার হিসাবে ময়দানের এক পরিচিত ক্রীড়া সাংবাদিকের এরমধ্যেই উঠে এসেছে। প্রধান স্পনসর হিসাবে প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের কোম্পানি থাকলেও মাল্টিপল স্পনসর নিয়ে  বাকি পাঁচ কো স্পনসর হতে পারে অ্যাডিডাস, কিংফিশার, অম্বুজা সিমেন্ট, বন্ধন ব্যাঙ্ক এবং অ্যাপোলো টায়ার।

আরও পড়ুনঃক্রমশ আইসিসির চেয়ারম্যান পদে জোরাল হচ্ছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম

এর মধ্যে আরও একটি ঘটনা সমর্থকদের আশার আলো দেখাচ্ছে। কোয়েসের সাথে প্রাথমিক ভাবে বিচ্ছেদ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ছিল ইস্টবেঙ্গলের ফেসবুক পেজ। কাল বিকেলের দিকে আবার তা সক্রিয় হয়ে আগামী দিনে নতুন কিছু ঘোষণার কথা জানিয়েছে। এর পেছনে কোনও বড় ভাল খবর লুকিয়ে আছেন বলে মনে সমর্থকরা। সব মিলিয়ে অল্প কিছু দিনের মধ্যে ভালো কিছু খবরের আশা করতে পারেন সমর্থকরা।