17

গত রবিবার, ম্যাচ চলাকালীন জল খাওয়ার বিরতিতে পাক ওপেনিং ব্য়াটার তথা উইকেটরক্ষক মহম্মদ রিজওয়ানকে মাঠের মধ্যেই নামাজ পড়তে দেখা গিয়েছিল। ম্যাচে ৫৫ বলে ৭৯ রান করে অপরাজিত থাকেন রিজওয়ান। ৬টি চার এবং ৩টি ছয় মারেন। তবে সেইসব কিছু ছাপিয়ে, তাঁর সেই মাঠে নামাজ পড়ার মুহূর্তের ভিডিও ক্লিপই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

Subscribe to get breaking news alerts

27

তাঁর সেই নামাজ পড়া নিয়ে, ক্রিকেট মাঠে ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াকার ইউনিসও (Waqar Younis)। বলেছিলেন, 'হিন্দুদের সামনে' পাকিস্তানি ওপেনারকে 'নামাজ পড়তে' দেখাটাই তাঁর কাছে ভারত-পাক ম্যাচের সবথেকে বিশেষ মুহূর্ত ছিল। যার জন্য তাঁকে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। চাপের মুখে ওই মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়ে ক্ষমাও চান ওয়াকার। 

37

ভারতীয় দলেও প্রথম থেকে বহু মুসলমান ক্রিকেটার খেলেছেন। কাউকেই মাঠে নামাজ পড়তে দেখা যায়নি। মনসুর আলি খান পতৌদি খেলেছেন, মহম্মদ আজহার খেলেছেন, মহম্মদ কাইফ, জাহির খান, ওয়াসিম জাফর, ইরফান পাঠান বা এখনকার মহম্মদ শামি - কাউকেই কখনও মাঠে নামাজ পড়তে দেখা যায়নি। 

47

এর কারণটা খোলসা করেছেন মহম্মদ কাইফ। কাইফ বলেছেন, একজন খেলোয়াড়ের কাছে খেলা হল ধর্ম, বর্ণ, জাতি সবের ঊর্ধ্বে। আর নামাজ পড়া বা প্রার্থনা করা একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়। সেটা সো অফ করার বিষয় নয়। ছোটবেলা থেকে তিনি তাই শিখেছেন। 
 

57

তিনি জানিয়েছেন, কেউ কোথায়, কীভাবে নামাজ পড়বে, সেটা একান্তই তাঁর নিজের বিষয়। কিন্তু, তাঁর মতে প্রচুর লোকের মধ্যে, কোলাহলের মধ্যে নামাজ পড়া অর্থহীন। নামাজ এমন জায়গায় পড়া উচিত, যেখানে সস্পূর্ণ মনোযোগ ঈশ্বরের প্রতি দেওয়া যায়।  
 

67

তবে ভারতীয় ক্রিকেটাররা কখনই মাঠে নামাজ পড়বেন না। কাইফ জানিয়েছেন, ভারত মিশ্র সংস্কৃতি, মিশ্র ধর্মের দেশ। মুসলিম, হিন্দু, শিখ - বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে থাকেন। কাজেই ভারতীয়রা সবসময় মাথায় রাখেন, যাতে একজনের ধর্ম পালন, অন্যজনের সমস্যার কারণ না হয়। ভারতীয় ড্রেসিংরুমে সিনিয়র ক্রিকেটাররাও মাঠে ধর্মপালনের বিষয়ে সতর্ক করতেন। তাই ভারতীয়রা মাঠে নামাজ পড়া বা পূজাপাঠ কিছুই করেন না। 

77

কাইফ আরও বলেন, পাকিস্তানি খেলোয়াড়রাই একমাত্র ধর্মকে ক্রিকেট মাঠে টেনে নিয়ে আসে। সত্যি বলতে ভারত-পাক সাম্প্রতিক ক্রিকেট ম্যাচের পর পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, পাকিস্তানে ক্রিকেট এখন আর খেলা নয়, একেবারে ধর্মযুদ্ধ। শুধু ওয়াকার ইউনিস নন, পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদও পাকিস্তানের জয়কে ইসলামের জয় বলে দেখাতে চেয়েছেন। 
 

Read more Articles on