অতিরিক্ত ঘুম (Sleep) যে সব সময় খাকার তেমনটা নয়। সেটাই প্রমাণ করলেন শ্রীরামপুরের (Sreerampore)ত্রিপর্ণা চক্রবর্তী (Triparna chakraborty)। ঘুমানোর প্রতিযোগিতায় নাম দিয়ে ত্রিপর্ণা জিতলেন ৬ লক্ষ টাকা। 

যারা একটি বেশিই ঘুমকাতুরে হয় তাদের কত কথাই না শুনতে হয়। আর সেই অভ্যেস যদি বড় বয়স পর্যন্ত থেকে যায় তাহলে কুঁড়ে, কোনও কাজের নয়, অকর্মের ঢেঁকি কত অপমান সহ্য করতে হয়। কিন্তু কখনও ভেবেছেন এই ঘুম আপনাকে লাখপতি করে তুলতে পারে। পেতে পারেন লক্ষ লক্ষ টাকা। কী শুনে অবাক হলেন। এমনটাই কিন্তু করে দেখিয়েছেন শ্রীরমাপুরের ত্রিপর্ণা চক্রবর্তী। পুরো দেশের মধ্যে সেরা ঘুমোতে পারে কে বা সেরা ঘুমকাতুরে কে সেই প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন বাংলার ত্রিপর্ণা। যেই ঘুমের জন্য একসময় বাব-মা থেকে শুরু করে কত লোকের কাছে কত কথা শুনতে হয়েছে, সেই ঘুমের প্রতিযোগিতাই ত্রিপর্ণা চক্রবর্তীকে পাইয়ে দিয়েছে ৬ লক্ষ টাকার পুরষ্কার।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ছোট বেলা থেকে ঘুমোতে ভালোবাসেন ত্রিপর্ণা। তার ঘুমের অনেক গল্পও রয়েছে। সে বোর্ডের পরীক্ষার হলে ঘুমিয়ে পড়া থেকে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়া। আরও নান কীর্তি রয়েছে তার। বর্তমানে ত্রিপর্ণা একটি বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি করেন । আমেরিকার কোম্পানি হওয়ায় তাকে রাতে কাজ করতে হয় ও দিনের বেলায় ঘুমোতে হয়। নেট মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছিলেন একটি নামকরা ম্যাট্রেস সংস্থা সেরা ঘুমকাতুরে মানুষটিকে খুঁজছেন। তার হাতেই তারা তুলে দিতে চেয়েছিলেন সেরা ঘুম কাতুরের পুরস্কার। সেই প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়ে ফেলেন ত্রিপর্ণা। এদিকে সেই প্রতিযোগিতায় গোটা দেশ থেকে অন্তত সাড়ে ৫ লক্ষ প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাটা মোটেই সহজ ছিল না। ঘুমোনই এই প্রতিযোগিতার মূল ইভেন্ট। অর্থাৎ কে কতক্ষণ ঘুমোতে পারেন তার উপরই নির্ভর করছে এই প্রতিযোগিতা শিরোপা জেতার সুযোগ। 

প্রতিযোগিার নিয়ম অনুযায়ী, ১০০ দিনের চ্যালেঞ্জে প্রত্যেক প্রতিযোগীদের দিনে ন’ঘণ্টা করে গভীর ভাবে ঘুমোতে হবে। ফাইনালে কে কেমন ঘুমোচ্ছেন তা দেখার জন্য বাড়িতে প্রতিযোগিতার উদ্যোক্তারা লোকও পাঠিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ফাইনালে ঘুমের জন্য ১০০-র মধ্যে ৯৫ পান শ্রীরামপুরের মেয়ে। ত্রিপর্ণার পক্ষে লড়াইটা আরও কঠিন ছিল কারণ অন্যান্য প্রতিযোগিতার যখন রাতের বেলা ঘুমোতেন, সেখানে ত্রিপর্ণা রাতে চাকরি করে দিনের বেলার ঘুমোতেন। ঘরে লোকজন ঢুকে পড়ছেন, নানা আওয়াজ, নান কথা তার মধ্যেই ঘুমোতেন তিনি। অবশেষে প্রতিযোগিতা জিতে ৬ লক্ষ টাকা পুরষ্কার পান শ্রীরমাপুরের ত্রিপর্ণা চক্রবর্তী। এরপর থেকে হয়তো যারা ঘুমোতে ভালোবাসেন তাদের ভাগ্যে বকাটা একটু কমই জুটবে।