ভারত ও চিন সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর এখন দেশজুড়ে চিন নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। দেশে আওয়াজ উঠেছে, যে চিনকে এর উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সীমান্তে উপযুক্ত উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও চিনকে একটি উপযুক্ত জবাব দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই চিন থেকে আমদানি করা পণ্যগুলি হ্রাস করার দাবি উঠেছে দেশ জুড়। কারণ চিন থেকে কোটি কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ রয়েছে ওষুধেরও।

ভারতের ফার্মাসেক্টর পুরোপুরি চিনের উপর নির্ভরশীল। সর্বভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি তাদের প্রয়োজনীয়তার ৭০ শতাংশ এপিআই চিন থেকে আমদানি করে। গ্যালভান ভ্যালি সংঘাতের পরে চিন এই পণ্যগুলির দাম বাড়ানো শুরু করেছে। চিন এমন সময়ে ভারতের নির্ভরতার সুযোগ নিচ্ছে। 

প্রতি বছর ভারতে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার ওষুধ উত্পাদন করা হয়। ভারত ফার্মাসিউটিক্যাল প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রারম্ভিক উপাদান, এপিআইগুলির জন্য মূলত চিনের উপর নির্ভরশীল। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৯ সালে, ভারত চিন থেকে প্রায় ১৭,৪০০ কোটি এপিআই আমদানি করেছে। অথচ ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ওষুধ উত্পাদনকারী দেশ। ডক্টর রেড্ডি ল্যাব, লুপিন, গ্লেনমার্ক ফারমা, মেলান, জাইডাস ক্যাডিলা এবং ফাইজারের মতো ভারতের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলি মূলত এপিআইয়ের জন্য চিনের উপর নির্ভর করে। ভারত চিন থেকে ৫৩ টি গুরুত্বপূর্ণ ফার্ম এপিআইয়ের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আমদানি করে।

বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের আওতাধীন ফার্মাসিউটিক্যাল এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দীনেশ দুয়া ইটি-কে বলেছেন যে, গ্যালভান ভ্যালির ঘটনা সম্পর্কে চিন দুটি উপায়ে ভারতে আক্রমণ করছে। একদিকে এটি সীমান্তে আক্রমণ করছে এবং অন্যদিকে ভারতের নির্ভরতার ভুল সুবিধা নেওয়া শুরু করেছে। ওষুধের দাম এপিআইয়ের দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্যারাসিটামল মূল্য ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ২০ শতাংশ এবং পেনিসিলিন জি ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফার্মা পণ্যের মধ্যে সব ধরনের দাম প্রায় ২০ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে।