ফ্রুকটোজ এবং গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ অতি পরিচিত ও সহজলভ্য ফল খেজুর। আর সহজলভ্য বলেই এর উপকারীতা সম্পর্কে আমরা হয়তো অনেকেই জানি না। কারণে বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায় যে জিনিস সহজেই পাওয়া যায় তার থেকে যা দুর্মূল্য বা দামী তার পুষ্টিগুণ বা চাহিদা তুলনামূলক অনেক বেশি থাকে। এটা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়। খেজুর ফলকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। খেজুর শক্তি বা এ্যানার্জীর একটি ভালো উৎস। তাই খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন বি সিক্স যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। জেনে নেওয়া যাক এই ফলের পুষ্টিগুণ সম্বন্ধে।

খেজুরের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে সাধারণত পুষ্টিবিদদের মত, চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে থাকে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মি.লি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২ দশমিক ৮ গ্রাম ফাইবার। এছাড়াও খেজুরের রয়েছে আরও অনেক পুষ্টি উপাদান। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ফলের রকমফেরের ভিন্নতাজনিত কারণে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজের ন্যায় বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা নির্ভরশীল।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কিয়দাংশে জনসাধারণের কাছে খেজুর অতি পরিচিত একটি ফল।  সম্ভবত প্রাচীনকাল থেকেই মেসোপটেমিয়া থেকে প্রাগৈতিহাসিক মিশরের অধিবাসীরা খ্রিস্ট-পূর্ব ৪০০০ বছর থেকে এ গাছের গুণাগুন সম্পর্কে অবগত। প্রতি ১০০ গ্রাম পরিষ্কার ও তাজা খেজুরে ভিটামিন-সি রয়েছে যা থেকে ২৩০ ক্যালরী (৯৬০ জুল) শক্তি উৎপাদন করে। খেজুরে স্বল্প পরিমাণে জল থাকে যা শুকানো অবস্থায় তেমন প্রভাব ফেলে না। কিন্তু এ প্রক্রিয়ার ফলে সঞ্চিত ভিটামিন সি খাদ্য উপাদান নষ্ট হয়ে যায়। 

 

খেজুরে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ রয়েছে। পটাসিয়াম উপাদান রোগীর পথ্যের জন্যে বিশাল উপযোগী ও এর ক্ষেত্র হিসেবে খেজুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাকা খেজুরে প্রায় ৮০% শর্করা জাতীয় উপাদান রয়েছে। বাদ-বাকী অংশে খনিজ সমৃদ্ধ বোরন, কোবাল্ট, ফ্লুরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম এবং জিঙ্কের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান রয়েছে। এর কারণে প্রতিদিনের ডায়েটে ৩থেকে ৪ টে টাটকা খেজুর রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। এর ফলে যেমন শরীরে এ্যানার্জী বৃদ্ধি পায়, পাশাপাশি দুধের সঙ্গে ফুটিয়ে খেলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি মেটায়। এছাড়া লো ব্ল্যাড প্রেসারের সমস্যা থাকলেও প্রতিদিনের ডায়েটে খেজুর রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।