করোনা মহামারির জেরে এমনিতেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সকলে। তার মধ্যে বর্ষার সময়ে বৃদ্ধি পায় ডাইরিয়া মত সমস্যা। আজ বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে ওআরএস দিবস। আর এই দিন উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ডায়রিয়ার বিষয়ে একটি পরামর্শ জারি করেছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায় এবং এর চিকিত্সাও করা যেতে পারে। আসলে পেট খারাপ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। এই রোগে সঙ্গে ক্রমাগত বমি ও পেট খারাপ থাকার ফলে ধীরে ধীরে শরীরের সমস্ত জল শুকিয়ে দেয়। যার কারণে শিশুদের শারীরিক অবস্থা দুর্বল হতে শুরু করে।

বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়াসহ অনেকগুলি রোগ আমাদের চারপাশে ঘিরে শুরু করে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কখনও কখনও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুদের ডায়রিয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ভারত সরকার কিছু সাধারণ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ডায়রিয়া এড়ানোর সহজ উপায় 

১) ডায়রিয়ার সময়, জিংক এবং ওআরএসের নিশ্চিত সমাধান শিশুদের দিন।

২) ডায়রিয়ার সময় বুকের দুধ ও তরল খাবার দিন।

৩) শৌচ কার্যের পর বা শিশুকে খাওয়ানোর আগে সব সময় সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

৪) ১৪ দিনে জিঙ্ক সাপ্লিমেন্টস দিতে হবে রোগীকে।

৫) বাচ্চার শৌচকর্মের পর তাকে ভালোভাবে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে দিন। পরে নিজের হাতও সাবান দিয়ে আপনার হাত ধুয়ে নিন।

৬) চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র এএনএম বা আশা স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে দেখা করুন।

৭) সময় সময়ে ওআরএস এর জল এই রোগের জন্য বিশেষ উপকারী, তাই সময় মত এই তরল দিতে হবে শিশুকে।

 

 

ওআরএসকে সাধারণত ওরাল রিহাইড্রেশন লবণ বলা হয়। এই সমাধানের সাথে শরীরের হারিয়ে যাওয়া ইলেক্ট্রোলাইটগুলি পুনরুদ্ধার করে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন জানিয়েছে যে ওআরএসে ৮ টি মৌলিক উপাদান রয়েছে। যা এক লিটার পরিষ্কার জলেতে দ্রবীভূত করা দরকার। এতে থাকা সোডিয়াম ক্লোরাইডের পরিমাণ ৩.৫ গ্রাম, ট্রাইসোডিয়াম সাইট্রেট, ডিহাইড্রেটের ২.৯ গ্রাম, পটাসিয়াম ক্লোরাইডের ১.৫ গ্রাম, গ্লুকোজ ২০ গ্রাম।