Holi Diet Plan: ডায়েটিশিয়ান অভিষা রায় বলছেন, “সাধারণত রং খেললে আমাদের শরীরে ব্লোটিং বেড়ে যায়। কারণ, দোলের পর আমাদের শরীর অনেক বেশি অ্যাসিডিক এবং ডিহাইড্রেটেড নেচারের হয়ে যায়। সেইজন্যই বেশি ঘুম পায়।"

Holi Diet Plan: দোলের দিন রং খেলা হোক চুটিয়ে। তবে শুধু তো রং মাখলে হবে না। চলবে খাওয়াদাওয়া এবং দেদার পার্টি। বিশেষ করে যদি কোনও হোলির ইভেন্টে যান, তাহলে তো পেটে চাপ পড়তে বাধ্য। কারণ, নানারকমের খাওয়াদাওয়া হয়ে থাকে। তাই শরীরের দিকেও নজর দিতে হবে। অনেকের আবার পরের দিন অফিস থাকে। তাছাড়া ওয়ার্ক ফ্রম হোম হলেও, শরীর অনেক সময় ওয়ার্ক লোড নিতে পারে না। তাই কিছু জিনিস মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। 

আজকাল অনেকেই দোলের দিন হাউজ পার্টি করে থাকেন। আবার অনেকে মিলে ইভেন্টেও যান। অনেকক্ষেত্রে আবার সবাই এক জায়গায় মিলে চলে রং খেলা। সেইসঙ্গে, হুল্লোড়, রং মাখানো এবং দোলের আমেজকে পুরো ফিল করা সবাই মিলে। পাশাপাশি অনেক জায়গায় থাকে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা। স্ন্যাক্স তো আছেই, সঙ্গে লাঞ্চ এবং মদ্যপানও চলে এলাহি আয়োজনের সঙ্গে। আর ঠাণ্ডাই তো আছেই। অর্থাৎ, শরীরের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সেইজন্যই পরের অন্তত কয়েকটা দিন ডায়েট মেনে চলা জরুরি (holi diet plan for weight loss)। 

হোলি পার্টির পর শরীর সুস্থ করার উপায় কী?

এই প্রসঙ্গে ডায়েটিশিয়ান অভিষা রায় বলছেন, “সাধারণত রং খেললে আমাদের শরীরে ব্লোটিং বেড়ে যায়। কারণ, দোলের পর আমাদের শরীর অনেক বেশি অ্যাসিডিক এবং ডিহাইড্রেটেড নেচারের হয়ে যায় (holi detox diet plan)। সেইজন্যই বেশি ঘুম পায়। মিষ্টি জাতীয় খাবার, ভাজাভুজি, ঠাণ্ডাই এবং মদ্যপান, নানা কারণে এগুলো হয়ে থাকে। ফলে, হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই পরবর্তী ২-৩ দিনের ডায়েট হালকা এবং ডিটক্স টাইপের হওয়া উচিত। যাতে ওজন ঠিক থাকে এবং ফ্যাট বৃদ্ধি রোধ করা যায়।"

তিনি জানাচ্ছেন, “আসলে অতিরিক্ত চিনি এবং তেল শরীরে গেলেই হজমশক্তি দুর্বল হতে শুরু করে। সেইজন্যই অনেকের পেট ফাঁপা এবং গ্যাস:গ্যাস ভাব হয়। তাই পেট ফুলে যাওয়া বা ভারী ভারী ভাব তৈরি হয়। মিষ্টি এবং ভাজাজাতীয় খাবার খেলেই এইরকম হতে পারে। ১-২ কেজি হঠাৎ ওজন বৃদ্ধিও হতে পারে। শরীরের জলের মাত্রা কমে গেলে মাথাব্যথা এবং ক্লান্তি আসে।"

কীভাবে মেনে চলবেন ডায়েট?

অভিষা রায়ের মতে, “সকালে ডিটক্স জল খেতে পারেন। রাতভর ভিজিয়ে রাখা গরম লেবু জল/জিরের জল/জোয়ান জল/মেথি জল খেতে পারেন। ব্রেকফাস্টে সবজি পোহা/ওটস উপমা/মুগ ডাল চিল্লা/ ২টি সিদ্ধ ডিমের সাদা অংশ খান। তবে পরোটা, পুরি, মিষ্টি এইসব এড়িয়ে চলাই ভালো। ব্রেকফাস্টের পর পেঁপে, আপেল, পেয়ারা কিংবা নারকেলের জলও খেতে পারেন। তার ফলে, হজমশক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং শরীরের হাইড্রেশন ফিরে আসবে। লাঞ্চে ১-২টি রুটি অথবা ভাত (১টি ছোট কাপ), ডাল, লাউকি, টরি কিংবা মিক্সড ভেজ এবং স্যালাড খেতে পারেন।"

তাঁর কথায়, “নন ভেজের মধ্যে হালকা ভাজা মাছ, বয়েলড চিকেন, গ্রিলড চিকেন এবং সয়াবিন খেতে পারেন। তবে ভাজা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। সন্ধ্যাবেলা সন্ধ্যা: গ্রিন টি/ লেবু চা এবং ভাজা মাখনা বা ভাজা ছানা ট্রাই করুন। কিন্তু কোনওভাবেই নিমকি এবং মিষ্টি খাবেন না। ডিনারে নিরামিষ স্যুপ, ক্লিয়ার চিকেন স্যুপ, হালকা খিচুড়ি বা সবজি ভাজা খেতে পারেন। তবে রাত ৮:৩০ মিনিটের মধ্যে খেয়ে নিলে সবচেয়ে ভালো। এইসবের সঙ্গে রোজ ২.৫-৩ লিটার জল পান করুন এবং ৩০ মিনিট করে হাঁটুন। প্রতিদিন ১ বাটি করে দই খেতে পারলে আরও ভালো। মদ ছোঁবেন না একদম।" 

তাই দারুণ মজা করুন দোলে এবং সুস্থ থাকুন। 

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।