বিশ্বনাথ দাস, হাওড়া:  ভাঙচুর এবার কবিগুরুর বিশ্বভারতীতেও! দায় কার? রাজ্য সরকার ও শাসকদলকেই কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, 'আদালতের নির্দেশে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পাঁচিল দিয়ে ঘেরার কাজ চলছে, তখন কোন অধিকারে বাধা দিচ্ছে তৃণমূল!' বিশ্বভারতীকাণ্ডে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপে দাবি করেছেন মেদিনীপুরের সাংসদ।

আরও পড়ুন: করোনা আবহেই অঙ্গদান করে আবারও নজির গড়ল এক পরিবার

তাহলে কি আর খোলা মাঠে পৌষমেলা হবে না? বিশ্বভারতীর মেলার মাঠটিকে ঘিরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কাজও চলছিল জোরকদমে। আর তা নিয়েই যত গণ্ডগোল। জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে মাঠ ঘিরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তেজনা পারদ চড়ছিল শান্তিনিকেতনে। এরইমধ্যে আবার রবিবার কয়েকজন প্রাক্তনীকে বিশ্বভারতীর নিরাপত্তারক্ষীরা হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ। ফলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে।

সোমবার সকালে বোলপুর পোস্ট অফিসের কাছ থেকে ধিক্কার মিছিল বের হয়। মিছিলে পা মেলান হাজার দশেক মানুষ। কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা না থাকলেও, মিছিলের প্রথমসারিতে ছিলেন দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউরি, বোলপুরের কাউন্সিলর শেখ ওমর-সহ আরও অনেকে। মিছিল যখন বিশ্বভারতীর মেলার মাঠের কাছে পৌঁছয়, তখন এলাকায় নির্বিচার ভাঙচুর শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। চোখের নিমেষে  ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাঁচিল নির্মাণের সামগ্রী, এমনকী ঠিকাদারের অস্থায়ী অফিসের টেবিল-চেয়ার ফ্যানও। বাদ যায়নি মেলার মাঠের স্থানীয় বাতিস্তম্ভগুলিও। এরপর নিরাপত্তাজনিত কারণে আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্বভারতী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: ঘরে রোদ-বাইরে বেরোলেই বৃষ্টি, আজ হঠাৎ বর্ষণের সাক্ষী থাকবে মহানগর

মঙ্গলবার দিল্লি থেকে কলকাতা ফিরলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, 'রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছে। উপাচার্যরা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে। বিশ্বভারতীতে যা ঘটল, তাতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।' দিলীপ ঘোষের আরও বক্তব্য, 'শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের মদতে বিশ্বভারতীর জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। সেই জমিতে চলছে দোকানপাট। দোকান মালিকদের কাছ থেকে তোলা নিচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা।'