বাড়িতে পাওনাদারের আনাগোনা লেগেই থাকত। দেনার দায়ে শেষপর্যন্ত স্ত্রীকে খুন করে আত্মহত্যা চেষ্টা করল এক যুবক! ঘর থেকে মহিলার গলাকাটা দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্য ঘরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়েছিল তাঁর স্বামী। তাকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাওড়ার বাগনানে।

মাস সাতেক আগে বাগনানের হরিনারায়ণপুরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন চন্দন বিশ্বাস ও তার স্ত্রী মিনা। এলাকায় রেলকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন চন্দন। কিন্তু সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা তো ছিলই না, বরং অনেকের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন তিনি। অন্তত তেমনই দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের বক্তব্য়, প্রতিদিনই চন্দনের বাড়িতে টাকা আদায় করতে আসতেন পাওনাদারেরা। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিস্তর অশান্তিও হত। বুধবার সকালে যখন পাওনাদার আসেন, তখন ওই দম্পতির ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল।  ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া পাওয়া যায়নি।  ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।  প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘরের জানলা দিয়ে উঁকি দিয়ে মেঝেতে মহিলার পা ও রক্তের দাগ দেখতে পান তাঁরা।  খবর দেওয়া হয় থানা ও পঞ্চায়েতে। ঘরের দরজা ভেঙে মিনা-এর গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আর পাশে ঘরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়েছিলেন চন্দনও। তাঁকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় বাগনান হাসপাতালে। 

আরও পড়ুন: বাড়িতে ঢুকে নাবালিকা প্রেমিকাকে খুন করে আত্মঘাতী প্রেমিক, দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

কিন্তু কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল? প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, মিনাকে খুন করেছে তাঁর স্বামী চন্দনই। ঘটনার পর সে নিজেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করে। এদিকে আবার মিনা বিশ্বাসের বাপের বাড়ির লোকেদের দাবি,নানা অছিলায় তাঁদের কাছ থেকেও টাকা ধার নিয়েছিল চন্দন। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পনামাফিক স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।