বিশ্বনাথ দাস, হাওড়া-হাওড়ার শিবপুরের হাজার হাত কালী মন্দির। ১৮৭০ সালে এই কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তখন থেকেই কালীপুজো হয়েছে আসছে শিবপুরের ওলাবিবিতলায়। চণ্ডীপুরাণ অনুযায়ী, অসুর বধের সময় দেবী দুর্গা অনেক রূপ ধারন করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম হাজার হাতের রূপ। কাত্যায়নী, মহামায়ার পরেই অসুর নিধন করতে আসেন হাজার হাত রূপী মা কালী। চণ্ডীপুরাণের ২২তম অধ্যায়ে কালীর এই রূপের কথা উল্লেখ আছে। 

আরও পড়ুন-সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে রাজ্যে চাকা গড়াল লোকাল ট্রেন, সাড়ে ৭ মাস পর পরিষেবা পেয়ে খুশি যাত্রীরা

কথিত আছে, এখানকার মুখোপাধ্য়ায় বাড়ির ছেলে তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্য়ায় মা চণ্ডীর স্বপ্না দেশে কালীর এই রূপ দেখতে পান। তারপর থেকেই হাজার হাত কালী মাতার জন্য মন্দির প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা থাকলেও তাঁর সাধ্য ছিল না। ১৮৭০ সালের সময় তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্য়ায়ের এই ইচ্ছাপূরণের জন্য এগিয়ে আসেন স্থানীয় হালদার পরিবার। সাহায্য়ের হাত বাড়িয়ে দেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ওই বছর বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন প্রতিষ্ঠা হয় হাজার হাত কালী মন্দিরের। জানা যায়, এখানে পশু বলি প্রথা কোনও দিন চালু ছিল না। আজও সেই ঐতিহ্য মেনে পশু বলি হয়নি এই মন্দিরে।

হাজার হাত কালীর এই মন্দিরে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা, দুপুর ২টো এবং রাত সাড়ে আটটায় পুজো হয়। প্রসাদ বিতরণ করা হয় বিকেলে ও রাতে মন্দিরে আরতি হওয়ার পর। প্রতি নিয়ত পুজোর পাশাপাশি, বুদ্ধ পূর্ণিমায় বুদ্ধ পূর্ণিমায় মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবসে কালীপুজোর দিন বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। বংশ পরম্পরা মেনে এখনও ওই হাজার হাত তালী মন্দিরের পুরোহিত মুখোপাধ্য়ায় বাড়ির সদস্যরা। 

আরও পড়ুন-একুশের আগে ১৩ কোটি টাকার সাবওয়ে উপহার দমদমবাসীকে, আনুষ্ঠানিক সূচনায় মন্ত্রী সুজিত বসু

কথিত আছে, দেবী কালীর হাজার হাত নাকি দেখা যায় না। এক ব্যক্তি চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই মন্দিরের দেবী খুব জাগ্রত। ভক্তিভরে কিছু চাইলে মা কালী তাঁদের ফিরিয়ে দেন না। এই দেবী নীসবর্ণা, বাহন সিংহের উপর তাঁর ডান পা। দক্ষিণ ভারতীয়দের কাছেও তিনি পূজিত হন। শ্রাবন মাসের শুক্লপক্ষে শুক্রবার এই মন্দিরে পুজো দিতে ভিড় করেন দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারের লোকেরা। এখানে দেবী পূজিত হন তন্ত্র মতে।