তৃণমূল নেতার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক ঘরের মধ্যে স্ত্রী-মেয়েকে বেধড়ক মারধর ফেসবুকে নিজেই পোস্ট করেন বলে দাবি বিষয়টি জানাজানি হতেই পরিবার নিয়ে বেপত্তা

বিশ্বনাথ দাস, হাওড়া-একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে হাওড়া তৃণমূল নেতৃত্ব। একজন তৃণমূল নেতা তাঁর নিজের ঘরে স্ত্রী-কন্যাকে বেধড়ক মারধর করছেন। ফেসবুকে সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই বিতর্ক শুরু হয়েছে। হাওড়া তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত এই ঘটনার জল গড়িয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোফভ তৈরি হয়েছে খোদ দলের অন্দরেই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন-থানা ঘেরাও কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের লাঠির ঘায়ে জখম কয়েকজন বিজেপিকর্মী

কী আছে ভাইরাল ভিডিওয়?

জানাগেছে, ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও স্থানীয় তৃণমূল নেতা মইনুল হোসেন মোল্লা তাঁর স্ত্রী ও মেয়েক বেধড়ক মারধর করছেন। মারধরের চোটে কাতর আর্তনাদ করছেন তাঁর স্ত্রী। শুধু তাই নয়, স্ত্রী ও মেয়েকে লাথি মারতেই দেখা যায় ওই ভিডিওতে। ফেসবুক পোস্ট হওয়া এই ভিডিও ঘিরেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। স্থানীয় সূ্ত্রে খবর, গত বুধবার মইনুল হোসেন মোল্লা নামে ওই তৃণমূল নেতা নিজেই ওই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ভিডিও পোস্ট করে সেখানে তিনি লেখেন, ''স্ত্রী এবং মেয়েক মারধর করছি, কেমন লাগছে বন্ধুরা''। 'পালোগামা' নামে একটি প্রোফাইল থেকে তিনি নিজেই এই ভিডিও শেয়ার করেছেন বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন-গৃহস্থের বাড়িতে ভূতের আতঙ্ক, বাড়ির দেওয়াল অদৃশ্যভাবে ফুটে উঠছে আঁকি-বুকি

জগৎবল্লভপুরের এই তৃণমূল নেতার পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রচুর মানুষ শেয়ার করতে শুরু করেন ওই তৃণমূল নেতার পোস্ট। ভিডিওটি চারিদিকে ভাইরাল হওয়ার পরই বিতর্ক শুরু হয়। এরপরই, প্রোফাইল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় স্ত্রী-মেয়েকে মারধর করার ভিডিও। ততক্ষণ বিষয়টিকে নিয়ে রাজনৈতিকমহলে জল্পনা শুরু হয়ে যায়। তারপর থেকেই স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে ঘরছাড়া অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা মইনুল হোসেন মোল্লা। তাঁর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও সম্ভব হয়নি। 

আরও পড়ুন-ফার্স্টফুডের দোকানের খাবার দেখে চোখ কপালে, প্রশ্ন করায় রোষের মুখে পড়ল খাদ্য দফতর

ঘটনার জেরে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। শঙ্করহাটি দুনম্বর দুনম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বলেন, একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে যেভাবে বাড়ির লোকজনকে মারধর করছেন, তা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে সাধারণ মানুষের কাছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে। ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ওই তৃণমূল নেতাকে ধিক্কার জানিয়েছেন, জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মহম্মদ ইব্রাহিম।