পরিত্যক্ত সোনার খনিতে মিলল নতুন প্রজাতির বিরল সাপ! কতটা বিষাক্ত এই ডেনড্রেলাফিস?
লক্কুন্ডি এলাকায় সম্প্রতি সোনা-সহ নানা ধাতব বস্তু, রাজাদের আমলের নিদর্শন, মন্দিরের চিহ্ন, নাগশিল্প-সহ বহু ঐতিহাসিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে একাধিক নাগ সাপেরও দেখা মিলেছে। ঠিক এই ঘটনার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর খবর এসেছে পাপুয়া নিউ গিনি থেকে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোনার খনি হিসেবে পরিচিত একটি পুরনো খনিতে আবিষ্কৃত হয়েছে সম্পূর্ণ কালো রঙের বিরল এক সাপ।
এই নতুন প্রজাতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেনড্রেলাফিস আত্রা’। ২০০৪ সালে বন্ধ হওয়া খনিতে মিলল আত্রা পাপুয়া নিউ গিনির মিলন বে প্রদেশের কাছে মিসিমা দ্বীপে একসময় একটি বিশাল সোনার খনি চালু ছিল। এটি বিশ্বের বড় সোনার খনিগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে ২০০৪ সালে খনিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর সেই এলাকায় ঝোপঝাড় ও জঙ্গল গড়ে ওঠে। সম্প্রতি সেই পরিত্যক্ত খনির আশপাশেই এই নতুন সাপের প্রজাতির সন্ধান পান গবেষকরা। কেমন এই নতুন প্রজাতির সাপ? ডেনড্রেলাফিস আত্রা সম্পূর্ণ কুচকুচে কালো রঙের। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত একই রঙ দেখা যায়। চোখও কালো হলেও আলো পড়লে চকচকে হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানীদের মতে, আকারে এই সাপ তুলনামূলক বড়। পরিত্যক্ত এলাকা ও ঘন জঙ্গলে সহজেই এরা বসবাস করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সাপ বিষাক্ত নয়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ফ্রেড ক্রাউস এই সাপ নিয়ে গবেষণা করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ওই এলাকায় শুধু এই প্রজাতিই নয়, চারটিরও বেশি নতুন প্রজাতির গাছবাসী সাপ থাকতে পারে। খনন কাজ ফের শুরুতে বাধা মিসিমা দ্বীপে আবারও খনন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছিল পাপুয়া নিউ গিনি সরকার। আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ফের সোনা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু নতুন ও বিরল সাপের প্রজাতি আবিষ্কারের পর সেই পরিকল্পনায় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। পরিবেশবিদ ও গবেষকদের মতে, আবার খনন শুরু হলে ওই এলাকার পরিবেশ ও প্রাণীজগতের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে এমন বিরল প্রাণীদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই তাঁরা খনন প্রকল্প নিয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন। উপসংহার পরিত্যক্ত সোনার খনিতে নতুন প্রজাতির সাপের আবিষ্কার শুধু বৈজ্ঞানিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকেও বড় বার্তা দেয়। উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করাও যে সমান জরুরি, ডেনড্রেলাফিস আত্রার আবিষ্কার সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দিল।


