ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে শনিবারই মাওবাদীদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে শহিদ হয়েছিলেন ৫ জন জওয়ান, ৩ জন সিআরপিএফ-এর, আর ২ জন রাজ্যের বিশেষ বাহিনীর সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছিল ২ মাও সদস্যের মৃতদেহও। ওই ঘটনার পর থেকে অন্তত ১৫ জন জওয়ানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। রবিবার সকালে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, জঙ্গলের ওই স্থান থেকে আরও অন্তত ১৪ টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেই দেহগুলি মাওবাদীদের না জওয়ানদের, তা জানা যায়নি।

সংঘর্ষে আহত জওয়ানদের মধ্যে ২৩ জনকে বিজাপুর হাসপাতালে এবং ৭ জন রায়পুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবারই আধা-সামরিক বাহিনীকে নিখোঁজ জওয়ানদের উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে শুকমাতে এমআই-১৭ হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। নিখোঁজ জওয়ানদের সন্ধানে বিজাপুরের জঙ্গলে এখন স্থল ও আকাশপথে তল্লাশি চলছে।

ছত্তিশগড়ের বস্তার রেঞ্জের পুলিশের আইজি সুন্দররাজ পট্টিলিঙ্গম জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে খবর রয়েছে, শনিবারের সংঘর্ষে আরও অন্তত নয় জন মাওবাদী জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ওই এলাকায় প্রায় আড়াইশ মাও সদস্য উপস্থিত ছিল। জানা গিয়েছে, গত দিন দশেক ধরেই ছত্তিশগড়ের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে, অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মাও কমান্ডার মাধভি হিদমা-র খবর আসছিল। ছত্তিশগড়ের প্রায় সব বড় মাওবাদী নাশকতার পিছনে হাত রয়েছে এই হিদমার।

তার খোঁজ চলছিল। কিন্তু, হিদমা-র কাছে পৌঁছনো খুব সহজজ নয়। তাকে ঘিরে থাকে মাওবাদী জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি স্তর। যার সবথেকে বাইরের স্তরটি থাকে হিদমার আসল অবস্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। এছাড়া ৫০০ মিটার এবং ২০০ মিটারের পরিসীমায় আরও দুটি নিরাপত্তার স্তর থাকে বলেজানতে পেরেছে সুরক্ষা বাহিনী। হিদমার খোঁজ করতেই এই পাল্টা হামলা করেছে মাওবাদীরা।

এই ঘটনায় শহিদ জওয়ানদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী টুইট করে জানিয়েছেন, 'এই বীর শহীদদের আত্মত্যাগ কখনই ভোলা যাবে না।' আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি। অন্যদিকে অমিত শাহ, নিরাপত্তা কর্মীদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, 'আমরা শান্তি এবং প্রগতির এই শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।'