আগামী ৫ আগস্ট বহু প্রতিক্ষিত অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজো। করোনা আবহে সামাজিক বিধিনিষেধ মেনেই হবে পুজো। কিন্তু রবিবার বিকেলের একটি খবরে সব কিছু উল্টে পাল্টে গেল। জানা গেল খোদ করোনা আক্রান্ত দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার নম্বর টু-র সংক্রমণের ঘটনায় অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজো নিয়ে প্রশ্ন উঠতেও শুরু করেছে। এর মধ্যেই দেশের  বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নদীর জল এনে চমকে দিলেন  সত্তরোর্ধ দুই ভাই। রবিবারই তাঁরা ১৫১ টি পবিত্র নদী এবং পাঁচটি সমুদ্রের সমুদ্রের জল নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন অযোধ্যায়।

 

 

দুই ভাইয়েরই বয়স ৭০ এর উপরে। বছরের পর বছর তাঁর বিভিন্ন নদীর জল সংগ্রহ করেছেন। জল এনেছেন বিভিন্ন সমুদ্র থেকেও। তার জন্য শ্রীলঙ্কাও গিয়েছেন। এবার সেই সব জল ও মাটি নিয়ে পৌঁছলেন অযোধ্যায়। বহু অপেক্ষার রামমন্দিরের ভূমি পূজনে সেই জল ও মাটি কাজে লাগানো হবে।

 দুই ভাই রাধেশ্যাম পাণ্ডে এবং শব্দ বৈজ্ঞানিক মহাকবি ত্রিফলার ঝুলিতে রয়েছে  গঙ্গা, যমুনা এবং ব্রহ্মপুত্রের মতো বড় বড় নদীর জল। সঙ্গে রয়েছে তিন সমুদ্রের জলও। কেবলমাত্র দেশই নয়, এই দুই রাম ভক্ত রামের শত্রু রাবনের দেশ অর্থাৎ শ্রীলঙ্কার ১৫টি নদী এবং ১৬টি পবিত্র স্থানের মাটিও সংগ্রহ করে এনেছেন।১৯৬৮ সাল থেকে এই সংগ্রহ শুরু করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: রাম মন্দিরের ভূমি পুজোয় এখনও আমন্ত্রণ পেলেন না আডবাণী ও যোশী, লাইম লাইটে কেবল মোদী

রাধেশ্যাম পাণ্ডে  জানিয়েছেন, “আমাদের স্বপ্ন ছিল, যেদিনই অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি হোক আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নদীর জল ও শ্রীলঙ্কার মাটি নিয়ে যাব। শ্রীরামের আশির্বাদে সেই লক্ষ্য পূরণ হল। আমরা ১৫১ নদীর জল সংগ্রহ করেছি। এর মধ্যে আটটি বড় নদী। এছাড়াও তিন সাগরের জল এবং শ্রীলঙ্কার ১৬ স্থানের মাটি সংগ্রহ করেছি।” তিনি আরও জানান, “১৯৬৮ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত আমরা কখনও হেঁটে, কখনও সাইকেলে, মোটর সাইকেলে, ট্রেনে, প্লেনে করে জায়গায় জায়গায় ঘুরেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, শ্রীরামের জন্মস্থানে সেই জল ও মাটি পৌঁছে দেওয়া।”

আরও পড়ুন:আনলক ৩ পর্বে ঘুরতে চলুন ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্সে, তবে থাকতে হবে কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট

সোমবার ৩ অগস্ট থেকে অযোধ্যায় শুরু হয়েছে ভূমি পূজন উৎসব। ৫ তারিখ মূল অনুষ্ঠান। হাজির থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত ছাড়াও মোদী মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যের। সেই অনুষ্ঠান উপলক্ষে এখন সাজো সাজো রব অযোধ্যায়। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।