পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্র গভীর সংকটে। তেল ও এলপিজি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় এখন রাশিয়ার থেকে তেল কেনার পাশাপাশি অন্য বিকল্প পথের সন্ধান করতে বাধ্য হচ্ছে ভারত সরকার।

নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল বাণিজ্য পথ, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্র এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক (দৈনিক ২৫-২৭ লক্ষ ব্যারেল) এই পথ দিয়েই আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েতের মতো দেশ থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, ভারত সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি রাশিয়া থেকে আমদানি বাড়ানোর কথা ভাবছে বলে খবর। সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার পর ভারত রাশিয়ান তেলের আমদানি কমিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবারও রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকতে চলেছে।

বর্তমানে এশিয়ার সমুদ্রে প্রায় এক কোটি ব্যারেল রাশিয়ান তেল মজুত রয়েছে, যা ভারতের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে। ভারত তার মোট জ্বালানির প্রয়োজনের ৮৮ শতাংশই আমদানি করে। তাই হরমুজ প্রণালীর এই অচলাবস্থা দেশের জ্বালানির দাম এবং জোগানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও ভারতের কাছে বর্তমানে দশ দিনের তেল এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভান্ডার মজুত রয়েছে, কিন্তু সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এই মজুত যথেষ্ট হবে না। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা, পশ্চিম আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকা থেকেও আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং জ্বালানির জোগান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

এলপিজি নিয়ে চিন্তা আরও বেশি

তেলের চেয়েও ভারত বেশি চিন্তিত এলপিজি (রান্নার গ্যাস) এবং এলএনজি সরবরাহ নিয়ে। ভারতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের ৮০-৮৫ শতাংশই আমদানি করা হয় এবং এর বেশিরভাগটাই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। অপরিশোধিত তেলের মতো এলপিজি-র জন্য ভারতের কাছে বড় কোনও কৌশলগত ভান্ডার নেই, যা এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে দেশে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। সংকট বাড়লে এলপিজি সরবরাহে রেশনিং বা নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হতে পারে বলেও বিভিন্ন রিপোর্টে আশঙ্কা করা হচ্ছে।