ভারতের চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেও পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই । কারণ ইসলামাবাদে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের অফিসের দুই কর্মী ফিরে এলে বিতর্ক থামছে না। ভারত সরকারের দুই কর্মীর ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১২ ঘণ্টা তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল। সূত্র্রের খবর একাধিক গোপন ডেরায় নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালান হয়েছে। 


সূত্রের খবর ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনের অফিসে যাওয়ার পথে একটি পেট্রোল পাম্প থেকে দুই কর্মীকে অপহরণ করে। পাকিস্তানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী তখন ঘড়িতে বেজেছিল ৮.৩০ মিনিট। সূত্র মারফত পাওয়া খবরে জানা গেছে, ১৫-১৬ জন সশস্ত্র মানুষ ৬টি গাড়ি নিয়ে চড়াও হয় দুই ভারতীয় কর্মীর ওপর। নিমেশের মধ্যেই দুই ভারতীয় কর্মীকে তারা কাবু করে ফেলে। সূত্রের খবর গাড়িতে তোলার সময়ই দুজনের চোখ কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয় । একই সঙ্গে দুজনের হাতও শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়। তারপর গাড়িটি প্রায় ১০ মিনিট চলে। 

গোপন আস্তানায় নিয়ে গিয়ে চরম অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ। সেখানে নিয়ে গিয়ে লোহার রড, লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬ ঘণ্টা সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। জল খেতে চাইলে পানীয় জলের পরিবর্তে নোংরা জল খেতে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হাই কমিশনে কর্মরত বাকি কর্মী ও পদস্থ আধিকারিকদের বিষয়ও তথ্য সংগ্রহ করতে চেয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। রাত ৯টা নাগাদ দুই কর্মীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে সূত্রের খবর দুই কর্মীর দেহে প্রাণঘাতী কোনও জখম না পাওয়া গেলেও পায়ে,  ঘাড়ে আর মুখে আঘাতের দাগ স্পষ্ট। পায়ের আঘাতও রীতিমত গুরুতর। দুজনেরই চিকিৎসা চলছে। পাক প্রশাসনের অভিযোগ দুজনের গাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকার জাল পাকিস্তানের টাকা পাওয়া গেছে। যদিও দুজনেই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

কবে থেকে এই রাজ্যে শুরু হবে লোকাল ট্রেন পরিষেবা, কী বলল রেল বোর্ড ...
পাকিস্তানের তরফে প্রকাশ্যে কিছু না জানান হলেও পাক মিডিয়ার দাবি ভারতীয় দুই কর্মী ইসলামাবাদে দূতাবাসে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল। তাদের গাড়িটি এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। তাই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারতের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপহরণকারীরা একাধিক ভিডিও তৈরি করেছে, যা দেখিয়ে দুর্ঘটনার তত্ত্ব সামনে আনতে চাইছে। 

ভারতীয় দূতাবাসের ২ কর্মী কি ইসলামাবাদে আইএসআই হেফাজতে, পাক রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠাল ভারত ...

সোমবার ভারতীয় রাষ্ট্র দূতের অফিস থেকে দুই কর্মী নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরই তৎপর হয় ভারত। অভিযোগ দায়ের করে পাক সরকারের কাছে। কিন্তু প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি পাক প্রশাসন। তারপরই ক্রমশ চাপ বাড়াতে থাকে ভারতের ওপর। ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকেও তলব করে বিদেশ মন্ত্রক। ভারতের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে রাত ৯টার দিকে দুই কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর।