উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় ধর্মীয় স্থান ঘোরানোর নাম করে হরিয়ানার এক তরুণীকে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দুই কর্মী এবং সিআরপিএফের দুই কর্মী। অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় ধর্মীয় স্থান ঘোরানোর নাম করে হরিয়ানার এক তরুণীকে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দুই কর্মী এবং সিআরপিএফের দুই কর্মী। অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। চতুর্থ অভিযুক্ত তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার বয়স ২৩ বছর। তিনি হরিয়ানার ফতেহাবাদ এলাকার বাসিন্দা। গত ২০ সেপ্টেম্বর পরিচিত এক মহিলা তাঁকে আমরোহায় ধর্মীয় স্থান ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। সেই সূত্রেই তাঁর সঙ্গে সিআরপিএফের ইনস্পেক্টর মোহিতের যোগাযোগ হয়।
২১ সেপ্টেম্বর সোনপতে মোহিতের সঙ্গে দেখা করেন ওই তরুণী। সেখান থেকে তাঁরা মেরঠে যান। মেরঠে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন সিআরপিএফের হেড কনস্টেবল লালারাম যাদব। পরদিন সন্ধ্যায় মোহিত ও লালারাম গাড়িতে করে তরুণীকে হাসানপুরের দিকে নিয়ে যান। পথে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর সঞ্জয় তোমর। অভিযোগ, এরপর তাঁকে আটরাসি-হাসানপুর রোডের একটি ফার্মহাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দু’টি ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ হেড কনস্টেবল প্রমোদ তাঁদের জন্য খাবার ও মদ আনেন বলেও অভিযোগ।
তরুণীর অভিযোগ, ফার্মহাউসে মোহিত, লালারাম যাদব এবং সঞ্জয় তোমর একে একে তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে প্রমোদও তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন তরুণী। এরপর অনলাইনে পুলিশ হেল্পলাইন নম্বর খুঁজে বের করে বুধবার ভোর প্রায় ৬টা নাগাদ পুলিশকে ফোন করেন তিনি। খবর পেয়ে হাসানপুর ও রাজাবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) সংশ্লিষ্ট ধারায় অপহরণ বা প্রলোভন দেখানো এবং গণধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশকর্মী সঞ্জয় তোমরকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই সিআরপিএফ কর্মীর বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
যে ফার্মহাউসে ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ, সেটি উত্তরাখণ্ডের এক নির্দল বিধায়কের বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ফার্মহাউসের ম্যানেজারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ঘটনার আরও তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর অভিযোগ, অপরাধের ভিত্তিতে প্রশাসন চললে পুলিশবাহিনীর মধ্যেও দুর্নীতি ও অপরাধের প্রবণতা তৈরি হয়। ঘটনাটিকে পুলিশবাহিনীর জন্য ‘কলঙ্ক’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।


