গত অক্টোবরে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় মহারাষ্ট্রে। আর নভেম্বর মাস জুড়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে চলে ক্ষমতা দখলের লড়াই। রাজনীতির এই মল্লযুদ্ধের মাঝেই চাপা পড়ে যায় একটি খবর। গত নভেম্বরে এই রাজ্যে আত্মহত্যা করেছেন ৩০০ বেশি  কৃষক।

গত চার বছরে এই প্রথম কোনও মাসে কৃষক মৃত্যুর হার তিনশো ছাড়াল। এর আগে ২০১৫ সালে একাধিকবার এই ঘটনা ঘটেছে। গত অক্টোবরে অতি বৃষ্টির ফলে মহারাষ্ট্রে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ খরিফ শস্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। 

আরও পড়ুন : নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে জনসমর্থন জোটাতে ১০ দিনের কর্মসূচি, এবার টোল ফ্রি নম্বরের সূচনা করবেন শাহ

রাজস্ব বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গতবছর অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে মহারাষ্ট্রে কৃষক মৃত্যুর হার ৬১ শতাংশ বেড়ে যায়। অক্টোবরে রাজ্যে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল ১৮৬টি। 

মহারাষ্ট্রের খরা প্রবণ বিদ্ধর্ব এলাকায় নভেম্বরে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১২০টি। ২০১৮ সালে মহারাষ্ট্রে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা যেখানে নথিভুক্ত হয়েছিল ২৫১৮টি, সেখানে ২০১৯ সালে নভেম্বর পর্যন্ত আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ২৫৩২টি।

চলতি বছর অতিবৃষ্টির ফলে মহারাষ্ট্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এক কোটি কৃষক, যা সুইডেনের জনসংখ্যার প্রায় সমান। মহারাষ্ট্রের দুই তৃতীয়াংশ  কৃষকের উপর প্রভাব ফেলেছে এই বৃষ্টি। 

আরও পড়ুন: রাখে হরি মারে কে, ৫০০ ফুট নীচে পড়েও বেঁচে গেল ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর পর্বতারোহী

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যে ৬,৫৫২ কোটি আর্থিক অনুদান দিয়েছে সরকার। গত ডিসেম্বরে সদ্য ক্ষমতায় আসা মহা বিকাশ অঘাধি সরকারও ঋণ দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষকদের। এরআগে ২০১৭ সালে তৎকালীন বিজেপি সরকার ৪৪ লক্ষ কৃষকের ঋণ মকুব করেছিল।

তবে কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে ঋণ মকুব বা লোন নয়, মহারাষ্ট্রের কৃষকদের সমস্যার সমাধানের জন্য চাই কৃষিকে আরও লাভজনক করে তোলা। গত বছর বর্ষার মরশুমে খরার কবলে পড়েছিল মহারাষ্ট্র। কিন্তু জুলাই-অগস্ট মাসে অতিরিক্ত বৃষ্টি পরবর্তী সময়ে নষ্ট করে দেয় চার লক্ষ হেক্টর জমির শস্য।