করোনাভাইরাস সংক্রমণে সারা দেশ যখন লকডাউনের কারণে গৃহবন্দি তখন ময়দানে নেমে কাজ করছেন চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। পিছিয়ে নেই পুলিশ-প্রশাসনও। আর করোনা যুদ্ধে এভাবে সামনে থেকে লড়তে গিয়ে মারণ ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছেন দেশের একাধিক চিকিৎসা কর্মী ও পুলিশকর্মী। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের কারণে প্রাণও হারিয়েছেন চিকিৎসক ও পুলিশ আধিকারকরা। এবার করোনা সংক্রমণের তালিকায় যুক্ত হলেন এদেশের সাংবাদিকরাও।

লকডাউনের দেশে ঘরে বাস কাজ করার সুযোগ নেই সাংবাদিকদের। পেশায় তাগিতে, মানুষকে আসল থবর তুলে দিতে আলি-গলি-রাজপথে ঘুরে বেড়াতে হয় তাঁদের। হাসপাতাল থেকে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সবখানেই দৌঁড়চ্ছেন তাঁরা। দেশের রেড জোন থেকে পিঙ্ক জোন, খবর সংগ্রহ করতে সব খানেই যেতে হচ্ছে তাঁদের। আর মানুষের কাছে খবর তুলে দিতে গিয়েই  এবার করোনা সংক্রমণের শিকার হলেন সাংবাদিকরাও।

রাষ্ট্রপতি ভবনেও এবার করোনার থাবা, আইসোলেশন পাঠান হল এস্টেটের ১২৫টি পরিবারকে

করোনা সংক্রমণের প্রভাব অর্থনীতিতে, নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে অভিবাসন বাতিল ট্রাম্পের

লকডাউনে গৃহবন্দি মানুষ, জনশূণ্য রাস্তায় নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে পশুরাজের পরিবার, ভাইরাল হল ছবি

জানা যাচ্ছে, বৃহন্মুম্বই পুরসভা শহরের নানা প্রান্তে কাজ  করা ১৭১ জন সাংবাদিকের সোয়াব টেস্ট করিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৫৩ জন সাংবিদকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত সাংবাদিকদের আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। 

ওই সাংবাদিকদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের খোঁজা হচ্ছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। আক্রান্ত সাংবাদিকদের পরিবারকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করে হোম কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে কেবল দেশের বাণিজ্য রাজধানী নয়, তামিলনাড়ু রাজধানী চেন্নাইতেও সাংবাদিকদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। শহরের ২ জন সাংবাদিকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, চেন্নাইয়ের এক আবাসনে ৫০ জনের করোনা পরীক্ষা হয়। তার মধ্যে ছিলেন এক সাংবাদিক। ইতিমধ্যে ওই আবাসনকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। আর আক্রান্ত সাংবাদিককে রাজীব গান্ধি সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। অপর সাংবাজিক ভর্তি রয়েছেন সরকারি স্ট্যানলে হাসপাতালে। 

চেন্নাই ও মুম্বইয়ের ঘটনা  সামনে আসার পরেই  সারা দেশের সাংবাদিক মহলেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জরুরি পরিষেবার অন্তর্গত হলেও সেই নিরাপত্তা ও সুবিধা সাংবাদিকরা কোনও দিনই পান না বলে এমনিতেই ক্ষোভ রয়েছে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত  অনেকের। বহু সময়েই প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই খবর সংগ্রহ করতে হয় তাঁদের। বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় বারবারই। কিন্তু সেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না তাঁদের অনেক সময়েই। এদিকে সাংবাদিকদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে চিন্তায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকও।

এদেকি দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। এদের মধ্যে একা মহারাষ্ট্রেই আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৬৬৬। আর মুম্বইতে কোভিড ১৯ রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। এদিকে তামিল নাড়ুতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ৪৩ জন। ফলে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছেন ১,৫২০। এঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৫৭ জন।