বিশ্বে করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে প্রভাব পেড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশে করোনা সংক্রমণের শিকার ৭ লক্ষ ৯২ হাজারেরও বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছে ৪২ হাজারের গণ্ডি। গোটা দেশ জুড়ে এখন কেবল মৃত্যু মিছিল আর স্বজন হারানোর কান্না। করোনা সংক্রমণের প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও। এই অবস্থায় দেশের নাগরিকদের চাকরির সুরক্ষা দিতে নয়া অভিবাসন নীতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অভিবাসন সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেওয়ার। 

করোনাভাইরাসের মত অদৃশ্য শত্রুর মোকাবিলা করা ছাড়াও আমেরিকার নাগরিকদের চাকরি বাঁচানোও তাঁর কর্তব্য বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর সেই কারণেই এগজিকিউটিভ অর্ডার পাশ করিয়ে  সাময়িকভাবে অভিবাসন বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিন। যার ফলে, আপাতত নতুন করে কোনও ব্যক্তিকে আমেরিকায় প্রবেশের জন্যে ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন দেওয়া হবে না।

 

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্যুইটে  করে জানান, "অদৃশ্য শত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং আমাদের গ্রেট আমেরিকান সিটিজেনদের কর্মসংস্কৃতি রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উপলব্ধি করে আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে অভিবাসন স্থগিত করার জন্যে একটি আদেশে স্বাক্ষর করব!"  আমেরিকার নাগরিকদের স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি ট্রাম্পের। 

রাষ্ট্রপতি ভবনেও এবার করোনার থাবা, আইসোলেশন পাঠান হল এস্টেটের ১২৫টি পরিবারকে

দেশে আরও বাড়ছে লকডাউনের মেয়াদ, ইজ্ঞিত দিল বিমান সংস্থাগুলিকে দেওয়া ডিজিসিএ-র নির্দেশ

লকডাউনে গৃহবন্দি মানুষ, জনশূণ্য রাস্তায় নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে পশুরাজের পরিবার, ভাইরাল হল ছবি

করোনা মোকাবিলায় আমেরিকায় প্রাদেশিক  সরকারগুলি জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। যাতে ৯০ শতাংশের বেশি আমেরিকাবাসী মারণ ভাইাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন অর্থনীতিও অচল হয়ে পড়েছে।  বিধিনিষিধে মার্কিন অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত মাসে আমেরিকায় বেকারত্বের সুবিধা দাবি করেছিলেন প্রায় ২২ মিলিয়ন আমেরিকাবাসী। এপ্রিলে এই সংখ্যাটা আরও বাড়ছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে। বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠা। বিধিনিষেধ রয়েছে ভ্রমণে।  দেশের চাকরির ক্ষেত্রগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে কিংবা একেবারে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। খুচরো বিক্রি রেকর্ড কমে গিয়েছে। ১৯৪৬ সালের পর থেকে এমন ধস দেখেনি আমেরিকা।

এদিকে আগামী নভেম্বরেই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। ফের পুনর্নির্বাচিত হবেন তিনি, এমনটাই আশা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারই মধ্যে আমেরিকা জুড়ে এই স্বাস্থ্য সঙ্কট। যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন  অনেক মার্কিন নাগরিকই। এই অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব রাগ গিয়ে পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-য়ের উপরে। এর মাঝেই দেশের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রাজ্যগুলোর গভর্নরদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি অর্থনীতি সচল করে দেওয়ার কথা বললেও ম্যারিল্যান্ড, ভার্জেনিয়া ও ওয়াশিংটনে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।