করোনাভাইরাসকে বাগে আনতে লকডাউনের রাস্তায় এগিয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশ। ভারতেও প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। পরিস্থিতি সামলাতে দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। প্রথম দফার লকডাউন শেষ হয়েছে ১৪ এপ্রিল। দেশে দ্বিতীয় দফার লকডাউন শুরু হয়েছে ১৫ এপ্রিল থেকে। চলবে ৩ মে পর্যন্ত। এই অবস্থায় প্রায় এক মাস ধরে দেশে বন্ধ রয়েছে বাস, ট্রেন, বিমান চলাচল। বন্ধ আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগও। ফলে ভারতে ঘুরতে এসে এদেশের নানা প্রান্তে আটকে পড়েছেন অমেক বিদেশি পর্যটকও। দিনের পর দিন হোটেলে থাকতে থাকতে এঁদের অনেকেরই পুঁজি শেষ হয়ে গিয়েছে। এমনই কয়েকজন বিদেশি পর্যটকের দেখা মিলল হৃষিকেশের গুহায়। 

ভারতের যোগা রাজধানী উত্তরাখণ্ডের হৃষিকেশ বিদেশ পর্যটচকদের কাছে বরাবরই ফেবারিট ডেস্টিনেশন। ঘুরতে এসে দেশে চলা লকডাউনে এখানে আটকে পড়েছেন বেশকিছু বিদেশি পর্যটক। প্রথমে হোটেলে থাকলেও প্রায় একমাস ধরে চলা লকডাউনে বর্তমানে এঁদের অনেকেরই হাত প্রায় খালি। এবিদেক বিদেশি টাকা ট্রান্সফার করার এসেজিন্সও বন্ধ। তাই হোটেল ছেঁড়ে এঁদের মধ্যে কয়েকজন আশ্রয় নিলেছিলেন লছমনঝুলার কাছে এক গুহায়। 

করোনা আক্রান্ত সমাজকর্মীর সংস্পর্শে ইমরান, সংক্রমণের আশঙ্কা এবার পাক প্রধানমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যে এবার নিরানন্দ রমজান, করোনা ত্রাসে পবিত্র মাসেও বন্ধ মক্কা ও মদিনার দরজা

রাষ্ট্রপতি ভবনেও এবার করোনার থাবা, আইসোলেশন পাঠান হল এস্টেটের ১২৫টি পরিবারকে

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গুহা থেকে ৬ বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করে। এঁদের মধ্যে তিন জন মহিলা, বাকি তিনজন পুরুষ। ওই পর্যটকরা ভিন্ন ভিন্ন দেশের। কিন্তু ২৪ মার্চ থেকে তাঁরা থাকছিলেন একসঙ্গেই ওই গুহার মধ্যে। জানা যাচ্ছে, বিদেশিরা তাঁদের সঙ্গে থাকা সব জিনিসপত্র নিয়েই গুহাবাসী হয়ে থাকছিলেন। কাঠ জ্বালিয়ে নিজেদের খাবার তৈরি করছিলেন। জলের জোগান আসছিল গঙ্গা থেকেই। এভাবেই কাটছিল দিন।

ফ্রান্স, আমেরিকা, ইউক্রেন, তুরস্ক, নেপাল থেকে আসা ওই পর্যটকদের উদ্ধারের পর ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে হৃষিকেশের স্বর্গ আশ্রমে। তাঁদের সেখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। যদিও এখনও অবধি কারও শরীরে সংক্রংমণের লক্ষণ চোখে পড়েনি।

এই ৬ জন বিদেশি পর্যটক প্রায় দু'মাস আগে হৃষিকেশে আসেন বলে জানা যাচ্ছে।  উত্তরাখণ্ড পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে,  শুধু এঁরা নন, আরও প্রায় ৭০০ জন  বিদেশি পর্যটক  বর্তমানে আটকে  রয়েছেন হৃষিকেশে। এঁরা সকলেই যে যার দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন নিজেরাই। দূতাবাসের দায়িত্বেই তাঁরা ফিরে যাবেন নিজেদের দেশে।