- Home
- India News
- 8th Pay Commission: ন্যূনতম মাইনে হোক ৬৯০০০ টাকা, বছরে বাড়ুক ৬ শতাংশ, কেন্দ্রের কাছে দাবি কর্মচারীদের
8th Pay Commission: ন্যূনতম মাইনে হোক ৬৯০০০ টাকা, বছরে বাড়ুক ৬ শতাংশ, কেন্দ্রের কাছে দাবি কর্মচারীদের
8th Pay Commission Big Update: অষ্টম বেতন কমিশনের সামনে পেশ করা দাবির সর্বশেষ সেটটি যদি গৃহীত হয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

NC-JCM চূড়ান্ত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে
8th Pay Commission Big Update: অষ্টম বেতন কমিশনের সামনে পেশ করা দাবির সর্বশেষ সেটটি যদি গৃহীত হয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। 'দ্য ইকোনমিক টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশনাল কাউন্সিলের (যৌথ পরামর্শকারী ব্যবস্থা)—যা NC-JCM নামে পরিচিত—খসড়া কমিটি তাদের চূড়ান্ত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। এই স্মারকলিপিতে তারা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে যে, ২০২৬ সাল থেকে বেতন কাঠামোতে কী কী পরিবর্তন আসা উচিত বলে তারা মনে করে। এই প্রস্তাবগুলোর মূল লক্ষ্য হল উচ্চতর মূল বেতন (Basic Pay), পেনশনের অধিকতর নিরাপত্তা এবং উন্নত ভাতার ব্যবস্থা করা। যা জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং পরিবারের পরিবর্তিত চাহিদাকে প্রতিফলিত করে।
সর্বনিম্ন বেতন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং সময়সীমা
দাবিগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সর্বনিম্ন মূল বেতনকে একলাফে বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকায় উন্নীত করার বিষয়টি। প্রতিবেদনটি অনুযায়ী, কমিটি ৩.৮৩-এর একটি 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর' সুপারিশ করেছে, যা বর্তমান বেতন ও পেনশনের পরিমাণকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে। এছাড়া, কমিটি দাবি জানিয়েছে যেন এই সমস্ত সংশোধনী বা পরিবর্তন ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ থেকে কোনও বিলম্ব ছাড়াই কার্যকর করা হয়। এর পাশাপাশি, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির (Increment) হার ৬ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমান হারের চেয়ে বেশি। এর পেছনের উদ্দেশ্য হল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির হারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেন কর্মচারীদের বেতনও বৃদ্ধি পেতে থাকে, তা নিশ্চিত করা।
বেতন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন
খসড়া প্রস্তাবটিতে বর্তমান বেতন কাঠামোকে (Pay Matrix) আরও সরল করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে থাকা ১৮টি ভিন্ন ভিন্ন স্তরকে (Levels) একীভূত করে মাত্র সাতটি বৃহত্তর বেতন স্কেলে নিয়ে আসা হোক। কমিটির মতে, এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে কর্মচারীদের পদোন্নতি বা কর্মজীবনের অগ্রগতি আরও মসৃণ হবে এবং একই পদে দীর্ঘকাল আটকে থাকার (Stagnation) সমস্যা কমে আসবে।
বিভিন্ন স্তরে বেতন কীভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে
উদাহরণস্বরূপ, সর্বনিম্ন বেতন স্তর—যা বর্তমানে ১৮,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়—তা বেড়ে ৬৯,০০০ টাকায় পৌঁছতে পারে। একইভাবে, বর্তমান স্তরগুলোকে একীভূত করার ফলে পরবর্তী স্তরগুলোতে সর্বনিম্ন বেতন বেড়ে ৮৩,২০০ টাকা এবং ১.১২ লক্ষ টাকায় উন্নীত হতে পারে। মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে, তাদের পদের উপর ভিত্তি করে মূল বেতন ১.৩৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হয়ে ২.১৫ লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উচ্চতর বেতন স্তরগুলোর ক্ষেত্রেও একই 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর' প্রযোজ্য হবে, যা সামগ্রিকভাবে সব স্তরেই বেতনের একটি সুষম বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। সহজ কথায় বলতে গেলে, সমগ্র বেতন কাঠামোটিকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে—যাতে বেতন স্তর বা ধাপের সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়, কিন্তু প্রতিটি ধাপেই শুরুর বেতনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলা যায়।
পেনশন, পদোন্নতি এবং চাকরির সুযোগ-সুবিধা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে একটি হলো ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারির পরে চাকরিতে যোগদানকারী কর্মীদের জন্য 'পুরনো পেনশন প্রকল্প' (Old Pension Scheme) পুনর্বহাল করা। কমিটি আরও প্রস্তাব করেছে যে, পেনশন হিসেবে কর্মীর সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৬৭% নির্ধারণ করা হোক এবং পারিবারিক পেনশন হিসেবে ৫০% প্রদান করা হোক। পেশাগত উন্নতির বিষয়টিও এখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে, ৩০ বছরের কর্মজীবনে প্রতিটি কর্মী অন্তত পাঁচটি পদোন্নতি বা আর্থিক মানোন্নয়নের সুযোগ পাবেন। এছাড়া প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পেনশনের হার পুনর্বিবেচনা বা সংশোধন করার দাবিও জানানো হয়েছে।
ভাতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা
এই স্মারকলিপিতে উন্নত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বাড়িভাতা (House Rent Allowance) কাঠামোর উন্নতির প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে সর্বনিম্ন স্তরে ভাতার হার ৩০% পর্যন্ত এবং মেট্রো শহরগুলোর ক্ষেত্রে তা আরও বেশি করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও উন্নত বিমা সুরক্ষা, কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু হওয়া কর্মীদের পরিবারকে অধিকতর ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং 'ছুটি নগদায়ন' বা Leave Encashment-এর উপর আরোপিত সীমা তুলে নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২৪০ দিন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি 'পিতামাতার সেবা ছুটি' (Parent Care Leave) এবং পিতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির মতো নতুন কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
'NC-JCM' (ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি) হল বিভিন্ন কর্মী ইউনিয়ন ও সমিতির একটি বিশাল জোট। আর ঠিক এই কারণেই অষ্টম বেতন কমিশনের পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই স্মারকলিপিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, এগুলি আপাতত কেবলই প্রস্তাবনা মাত্র। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে সরকারের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। এই প্রস্তাবনাগুলোর যদি আংশিক অংশও গৃহীত হয়, তবে তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোতে অন্যতম বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।