১৯ নভেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরোতা-য় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছিল চার জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) সন্ত্রাসবাদী। আর তারপর তদন্তে মিলেছিল জঙ্গিদের খোঁড়া সুড়ঙ্গপথ। এবার সেই সুড়ঙ্গপথে অনুসন্ধান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করল ওই রাতে উপত্যকায় প্রবেশের আগে বেশ কয়েক মাস ধরে সম্ভবত ওই সুড়ঙ্গ পথেই লুকিয়ে ছিল জঙ্গিরা। আর সুড়ঙ্গের অন্যদিক থেকে তাদের খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করত পাক সেনাকর্মীরা।

জানা গিয়েছে, সোমবার জঙ্গিদের খোঁড়া ওই সুড়ঙ্গপথে প্রায় ১৫০ ফুট হামাগুড়ি দিয়ে নেমে গিয়েছিলেন কমান্ড্যান্ট রাঠোর নামে ১৭৩ ব্যাটেলিয়নের এক সেনা কর্মী। সেখান থেকে বিস্কুট ও অন্যান্য খাবারের মোড়ক উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্কুটগুলি লাহোরের 'মাস্টার কুইসিন কাপকেক' সংস্থার। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ ছিল চলতি বছরের মে মাসলের আর এক্সপায়ারি ডেট হিসাবে দেওয়া রয়েছে ১৭ নভেম্বর। এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্তাব্যক্তিরা জানিয়েছেন, যেভাবে সময় ধরে জঙ্গিরা সুড়ঙ্গের বাইরে বেরিয়ে এসেছিল, তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কখন বাইরে আসাটা নিরাপদ, সেই বিষয়ে তাদের গাইড করছিল সম্ভবত কোনও পাক রেঞ্জার।

আরও পড়ুন - অকাট্ট প্রমাণ দিলেন চিনা বাদুড় মানবী, উহানের ল্যাব থেকে ছড়ায়নি নভেল করোনাভাইরাস

আরও পড়ুন - উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় কোন কোন আসন ছিনিয়ে নেবে বিজেপি, কী জানা গেল জনমত সমীক্ষায়

আরও পড়ুন - বিজেপির শাসনে কি পুরো পাকিস্তান দখল করবে ভারত, ফড়নবিসের মন্তব্যে উঠল বিতর্কের ঝড়

ভারতীয় গোয়েন্দাদের তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই চার সন্ত্রাসবাদী জইশ-এর শকরগড় শিবির থেকে অভিযান শুরু করে রামগড় ও হিরানগর সেক্টরের মধ্যবর্তী সাম্বা জেলার মাওয়ার অঞ্চলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। পিকআপ পয়েন্টটি ছিল পাকিস্তানের নঙ্গওয়াল সেক্টরের উল্টোদিকে অবস্থিত ভারতীয় গ্রাম জটওয়াল। কিন্তু,  ১৯ নভেম্বর জম্মু শহরের উপকণ্ঠে একটি ট্রাককে আটকায় নিরাপত্তা বাহিনী। ওই ট্রাকেই ছিল জইশ জঙ্গিরা। ব্যর্থ হয় তাদের পরিকল্পনা। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় চারজন সন্ত্রাসবাদীই। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় দেড় লক্ষ টাকা, তার কাটার যন্ত্র, চাইনিজ ব্ল্যাক স্টার পিস্তল, গ্রেনেড, অ্যাসল্ট রাইফেল এবং নাইট্রোসেলুলোজ জ্বালানী তেল বিস্ফোরক।