চিনের উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি থেকে নভেল করোনাভাইরাসটির উৎপত্তি ঘটেনি। বিশ্বজোড়া সমালোচনার মুখে স্পষ্ট প্রমাণ দিলেন 'চৈনিক বাদুড় মানবী' নামে খ্যাত, ভাইরোলজিস্ট শি ঝেংলি। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই তিনি এই গবেষণার কাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন। সম্প্রতি তাঁর গবেষণাপত্রটি নেচারে জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর বৈজ্ঢানিক মহল মেনে নিচ্ছেন ঝেংলি-র গবেষণাগার সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের উত্স নয়।

গবেষণাপত্রে উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির উদীয়মান সংক্রামক রোগ কেন্দ্রের প্রধান, শি ঝেংলি জানিয়েছেন আট বছর আগে কোনও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ৪ খনিশ্রমিকদের কাছ থেকে যে নমুনা তাঁরা সংগ্রহ করেছিলেন, তাতে সার্স-কোভ-২ ভাইরাস পাওয়া যায়নি। ২০১২ সালে, ইউনান প্রদেশের একটি তামার খনিতে বাদুরের বিষ্ঠা পরিষ্কার করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ওই খনি শ্রমিকরা। তাদের অসুস্থতার কারণ পরীক্ষা করার জন্য ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ওই গুহাটির কাছাকাছি এলাকা থেকে ঝেংলির গবেষক দল বাদুড়, ইঁদুর-সহ বিভিন্ন প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করেছিল।

আরও পড়ুন - বিজেপির শাসনে কি পুরো পাকিস্তান দখল করবে ভারত, ফড়নবিসের মন্তব্যে উঠল বিতর্কের ঝড়

আরও পড়ুন - 'লাভ জিহাদ' আইনের লক্ষ্য কি বাংলার নির্বাচন, বড় প্রশ্ন তুলে দিল বিজেপির পুরোনো সঙ্গী

আরও পড়ুন - দেশীয় বিমানে দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা, আত্মনির্ভরতার দিকে আরও একধাপ এগোল বায়ুসেনা

ওই চার খনিশ্রমিকদের কাছ থেকে নেওয়া ১৩ টি নমুনা পুনর্বিবেচনা করেছেন শি ঝেংলি। তাতে সার্স-কোভ-২ এর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে আরটিজি-১৩ নামে আরেকটি করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছিল যার জেনেটিক সিকোয়েন্স সার্স-কোভ-২-এর সঙ্গে ৯৬ শতাংশ মিলে যায়। তবে তারপরেও আরটিজি-১৩ এবং নভেল করোনাভাইরাসের মধ্যে অনেক তফাত।

এর আগে ২০২০ সালের মে মাসে শি ঝেংলি, চিনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করেছিলেন বিজ্ঞানের রাজনীতিকরণ করার লক্ষ্যেই তাঁর গবেষণাগার থেকে ভাইরাসটির উদ্ভব ঘটেছে বলা হচ্ছে। এই চিনা ভাইরোলজিস্ট বলেছিলেন এইরকম আরও সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। তা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে গেলে পশুদের থেকে সংক্রমণ ঘটতে পারে, এইরকম ভাইরাসগুলি সম্পর্কে আরও বিশদে গবেষণা করতে হবে এবং আগে থেকে সতর্ক হতে হবে।