পদুচেরির এক মন্দিরের সামনে ভিক্ষা করেন প্রভাথম নামের ৭০ বছরের বৃদ্ধা। অনেক বছর ধরেই ওই মন্দিরের সামনে ভিক্ষা করছেন বৃদ্ধা। কিন্তু হঠাৎ করেই পদুচেরির  ওই মন্দির কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, মন্দিরের সামনে  ভিক্ষুককে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু ওই ভিক্ষুক তো কিছুতেই মন্দির চত্বর ছাড়বে না। মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে ভিক্ষুক বার বার অনুরোধ করতে থাকেন, যেন তাকে সেখানে বসতে দেওয়া হয়। তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে গেলে, সে না খেতে পেয়ে মারা যাবে। অনুরোধ থেকে পরিস্থিতি বাগ বিতণ্ডায় চলে যায়। মন্দির কর্তৃপক্ষ তাঁকে জোর করে সরিয়ে দিতে চাইলেও ৭০ বছরের বৃদ্ধা রুখে দাঁড়ান। 

এরপরেই মন্দির কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় তার ঝোলা তল্লাশি চালাবে।  সেক্ষেত্রেও বৃদ্ধা ভিক্ষুক বাধা দেয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জোর করে ঝোলাটা নিজেদের হেপাজতে নিয়ে তল্লাশি চালায়। তল্লাশি চালাতে গিয়ে যা দেখল, তা চক্ষু চড়ক গাছ মন্দির কর্তৃপক্ষের। ঝোলার ভিতর থেকে উদ্ধার হল নগদ ১৫ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, ঝোলার মধ্যে হদিশ মিলল ব্যাঙ্কের পাসবই। পাওয়া গেল বৃদ্ধার আধারকার্ড। ব্যাঙ্কের পাসবই থেকে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে রয়েছে লক্ষাধিক টাকা। 

বৃদ্ধার টাকার পরিমাণ দেখে মনে অন্য সন্দেহ হয় মন্দির কর্তৃপক্ষের। যত দ্রুত সম্ভব তারা পুলিশ ডাকে তারা। তবে কোনও খারাপ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয় বলেই পদুচেরি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। শুধু মাত্র ভিক্ষা করে, পুণ্যার্থীদের দেওয়া দানেই প্রায় দুই লক্ষ টাকা সঞ্চয় করেছেন ওই বৃদ্ধা। পুলিশের তরফে জানানো  হয়েছে, তামিলনাড়ুতে ওই বৃদ্ধার আত্মীয় বাস করেন। বৃদ্ধার বয়সের কথা চিন্তা করে তাঁকে আত্মীয়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।