রাতে  শুতে যাওয়ার সময় সব ঠিক ঠাক ছিল। কিন্তু রাতে  একটা অদ্ভুত শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে গেল। ভূতে এমনিতে তেমন একটা বিশ্বাস নেই তাঁর। তবে এমন কী কিসের শব্দ? চোর এল নাকি বাড়িতে, কিন্তু চোর এলে তো এধরনের আওয়াজ হবে না। কী করবে ভেবে না পেয়ে তিনি উঠে যান। শব্দের দিকে যেতে গিয়ে নিজেদের শৌচাগারের দিকে চোখ পড়ে যায়। দেখেন সেখানে একটা  কুমির শুয়ে আছে। প্রথমে তো তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি।  কিন্তু খানিকবাদে বুঝতে পারেন স্বপ্ন নয়, সত্যি। শৌচাগারে প্রায় সাড়ে চার ফুটের একটা কুমীর তার ভয়ঙ্কর দাঁত বের করে শুয়ে আছে।  এমন ঘটনাই ঘটেছে গুজরাটে। 

গুজরাটের ভদোদরার কাছে এক ব্যক্তির শৌচাগারে কুমির পাওয়া যায়। কুমিরটিকে দেখেই ওই ব্যক্তি ভয় পেয়ে যান। জানা যায়, কুমিরটি তাঁকে আক্রমণের চেষ্টাও করে। কোনও রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে কুমিরটি  শৌচাগারে বন্ধ করে ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ ট্রাস্টে খবর দেন।  যত শীঘ্র সম্ভব ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ ট্রাস্টের বিশেষজ্ঞের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাঝারি ধরনের এই কুমিরটিকে ধরতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। কুমীরটি প্রথম থেকে আক্রমণাত্মক ছিল। তাছাড়া অন্ধকার থাকার জন্য কুমীরটিকে ধরতে অসুবিধা হয়।  প্রায় এক ঘণ্টা কসরতের পর কুমিরকে ধরা সম্ভব হয়েছে।কুমিরটিকে তার জন্য উপযুক্ত জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ভদোদরার পাশ দিয়ে বিশ্বামিত্র নদী চলে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ওই বিশ্বামিত্র নদী থেকেই কুমিরটি ওই ব্যক্তির শৌচাগারে প্রবেশ করেছে। কিন্তু কীভাবে সকলের অলক্ষ্যে ওই কুমীরটি শৌচাগারে প্রবেশ করেছে, সেই বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয় মানুষ মনে করছে, রাতের অন্ধকারেই নদী থেকে উঠে এসেছে কুমিরটি। অন্ধকার থাকার জন্য কেউ সেভাবে কুমিরটিকে লক্ষ্য করেনি। তবে ভদোদারায় কুমিরের উপদ্রব নেই বললেই চলে। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বামিত্র নদীর জল বেড়ে যাওয়ার কারণে কুমিরটি ভুল করে লোকালয়ে চলে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।