স্যাটেলাইট-সহ এক মার্কিন নাগরিক এবং কলকাতার এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে শ্রীনগর বিমানবন্দরে। সূত্রমতে, ওই মার্কিন নাগরিকের নাম জেফরি স্কট প্রাথের। তিনি কৌশিক হালদার নামের কলকাতার বাসিন্দা এক ব্যক্তির সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। ভারতে যে কোনও ধরনের স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের অনুমতি কেবল টেলিযোগাযোগ দফতরের অনুমতি বা লাইসেন্স সাপেক্ষেই দেওয়া হয়।
স্যাটেলাইট-সহ এক মার্কিন নাগরিক এবং কলকাতার এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে শ্রীনগর বিমানবন্দরে। সূত্রমতে, ওই মার্কিন নাগরিকের নাম জেফরি স্কট প্রাথের। তিনি কৌশিক হালদার নামের কলকাতার বাসিন্দা এক ব্যক্তির সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। ভারতে যে কোনও ধরনের স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের অনুমতি কেবল টেলিযোগাযোগ দফতরের (Department of Telecommunications) অনুমতি বা লাইসেন্স সাপেক্ষেই দেওয়া হয়। ব্যাগেজে করে স্যাটেলাইট ফোন নিয়ে ভারতে আগমনকারী যে কোনও ব্যক্তিকে দেশে প্রবেশের সময় অবশ্যই তা ঘোষণা করতে হয়।
সূত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীরা ওই ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কর্তারা জানান, গারমিন (Garmin) কোম্পানির তৈরি ওই স্যাটেলাইট ফোনটি জেফরির লাগেজ থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ওই দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। কারণ সেখানে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদীরা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ভারত টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে থাকে; অতীতে বিদেশি নাগরিক এবং ভারতীয়—উভয়কেই স্যাটেলাইট যোগাযোগ যন্ত্র বহনের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে। গত মে মাসে পুদুচেরি বিমানবন্দরে এক মার্কিন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে আটকে দেওয়া হয়, কারণ তাঁর কাছে একটি ইরিডিয়াম স্যাটেলাইট ফোন পাওয়া গিয়েছিল। তাঁকে হায়দরাবাদগামী বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত শুরু করা হয়। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, অতীতেও দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও হোটেলে অননুমোদিত স্যাটেলাইট যন্ত্র বহনের দায়ে বিদেশি নাগরিকদের আটক করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে রয়েছেন চিনা ও ব্রিটিশ নাগরিক।
এ ধরনের বিধি লঙ্ঘন রোধ করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (Directorate General of Civil Aviation) ভারতে ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয় যেন তারা ফ্লাইটের ভেতরে, বিদেশে অবস্থিত কার্যালয় এবং বিমানে প্রকাশনার মাধ্যমে যাত্রীদের এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অবহিত করে। বিদেশি সরকারগুলোও এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের প্রকাশিত ভ্রমণ সতর্কবার্তায় নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, ভারতে স্যাটেলাইট ফোন বা অনুরূপ জিপিএস (GPS) যন্ত্র বহন করে প্রবেশ করলে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের জরিমানা, যন্ত্র বাজেয়াপ্তকরণ কিংবা গ্রেফতারের মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতে পারে।


