- Home
- India News
- aadhaar vs voter: আধার না ভোটার কার্ড? সরকারি প্রকল্পের সুবিধে নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায় বিতর্ক
aadhaar vs voter: আধার না ভোটার কার্ড? সরকারি প্রকল্পের সুবিধে নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায় বিতর্ক
Aadhaar or Voter govt Identity Proof: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আধার লাগবে, না ভোটার কার্ড? পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংয়ের মন্তব্যে শুরু বিতর্ক। রাহুল গান্ধী ও সিপিএমের অভিযোগ, কেন্দ্রের জবাব, সব জানুন এখানে।

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে কোন কার্ড লাগবে, উঠছে প্রশ্ন
জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে আধার না ভোটার কার্ড, কোনটি গ্রাহ্য হবে, তা নিয়ে নতুন করে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং ওরফে লালন সিংহের একাধিক মন্তব্যের পর বিরোধীরা সরব হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে ঠিক কোন নথি জরুরি হবে, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

গ্যাংটকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্যেই বিতর্ক শুরু
সিকিম কোঅপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়ন লিমিটেডের অনুষ্ঠানে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মন্ত্রী বলেছিলেন, পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রকের অধীনস্থ প্রকল্পে সুবিধাভোগী শনাক্ত করতে এবং হাতে অর্থ তুলে দিতে ভোটার পরিচয়পত্র এবং বায়োমেট্রিক প্রমাণই গ্রাহ্য হবে। তাঁর কথায়, আধার এখন সুবিধাভোগীদের অর্থ প্রদানের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে শনাক্তকরণের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে তা আর গণ্য করা হবে না। এর আগে শুক্রবার দিল্লিতেও একই কথা বলতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে।
আধার নিয়ে কেন উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মন্ত্রী
দিল্লিতে মন্ত্রী আধার কার্ডের সহজলভ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাস্তার মোড়ে মোড়ে আধার তৈরি করা সম্ভব এবং কেউ চাইলে পাঁচ মিনিটেই আধার কার্ড করিয়ে নিতে পারেন। ফলে ভুয়ো সুবিধাভোগী তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এই যুক্তিতেই শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে আধারের ওপর নির্ভরতা কমানোর কথা উঠেছে।
সরকারের যুক্তি: ভুয়ো নাম বাদ, স্বচ্ছতা বাড়বে
মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, EPIC বা ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বরের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক প্রমাণ লাগবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অর্থ দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, এতে শুধু 'যোগ্য'রাই সুবিধা পাবেন, ভুয়ো নাম বাদ যাবে, যাচাইকরণ আরও মজবুত হবে এবং প্রকল্পে স্বচ্ছতা বাড়বে। তবে এই বিষয়ে সরকারের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।
শুক্রবার নতুন ব্যাখ্যা: ভোটার আইডি ও আধার, দুটিই ব্যবহার হবে
কংগ্রেস ও সিপিএমের অভিযোগের পর শুক্রবার মন্ত্রী জানান, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে ভোটার আইডি ও আধার, দুটিই ব্যবহার করা হবে। এক্স-এ তিনি লেখেন, সরকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে সুবিধা সরাসরি প্রকৃত উপভোক্তার কাছে পৌঁছবে, মাঝখানে দালালদের অপব্যবহারের কোনও সুযোগ থাকবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনার কথা বলেন, যেখানে প্রশিক্ষণার্থীদের পরিচয় যাচাই হবে EPIC নম্বর এবং বায়োমেট্রিক-ভিত্তিক আধার প্রমাণীকরণের মাধ্যমে।
এসআইআর-এর আবহে আরও তীব্র হয়েছে বিতর্ক
এসআইআর-এ অন্যায়ভাবে কোটি কোটি ভোটারকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে বিরোধীরা আগে থেকেই সরব। সেই আবহেই মন্ত্রীর ঘোষণা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে সেই ব্যক্তি কি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাও হারাবেন? এই আশঙ্কা থেকেই কংগ্রেস ও সিপিএম কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুবিধা ছাঁটার অভিযোগ তুলেছে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ: "এ হল হক চুরি"
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই পদক্ষেপকে "হক চুরি" বা অধিকার চুরি বলে আখ্যা দিয়েছেন। এক্স-এ তিনি একে "গভীর চক্রান্ত" বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে লক্ষ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা হচ্ছে, আর সেই তালিকাই এবার ঠিক করবে কেউ কল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা পাবেন কি না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে "মোদী সরকারের কর্মচারী" বলে আক্রমণ করে তাঁর দাবি, বিজেপির সঙ্গে ভোট চুরিতে তাঁর যোগসাজশ প্রমাণ-সহ ধরা পড়েছে।
"আজ পঞ্চায়েতিরাজ, কাল রেশন-পেনশন?" প্রশ্ন রাহুলের
রাহুলের আশঙ্কা, আজ পঞ্চায়েতিরাজ প্রকল্প, কাল একই নিয়ম রেশন, পেনশন, MGNREGA, আবাসন, স্কলারশিপ কিংবা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও চালু হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, নাম বাদ গেলে ভোটের অধিকার যাবে, ভোটের অধিকার গেলে বাকি অধিকারও যাবে। তিনি বলেন, ভোট দেওয়া নাগরিকের অধিকার, শর্ত নয়, আর গরিব মানুষের পেনশন ভোটার কার্ডের কাছে জিম্মি থাকতে পারে না।
সিপিএমের দাবি: বাদ পড়েছেন ১৩.৪ কোটির বেশি ভোটার
বুধবার সিপিএম পলিটব্যুরো জানায়, মন্ত্রীর মন্তব্যকে এসআইআর-এর বর্জনমূলক প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। দলের আন্দাজ, ১৩.৪ কোটির বেশি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, যাঁদের মধ্যে প্রান্তিক সম্প্রদায়, মুসলিম, মহিলা এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের সংখ্যা অনুপাতে বেশি। সিপিএমের মতে, কল্যাণমূলক প্রকল্পে ভোটার আইডি বাধ্যতামূলক হলে প্রকল্পগুলি আরও সীমিত মানুষের নাগালে থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে প্রশ্ন, আপাতত স্পষ্ট নয় চূড়ান্ত নিয়ম
সিপিএমের অভিযোগ, কয়েকটি রাজ্য সরকার এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়ার অজুহাতে রেশন-সহ অন্যান্য সুবিধা দিতে অস্বীকার করছে, যা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের স্পষ্ট লঙ্ঘন। দলের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রভাব সামাজিক কল্যাণমূলক প্রাপ্যের ওপর পড়তে পারে না, এমনই রায় রয়েছে শীর্ষ আদালতের। এদিকে ২০২৬-৩১ সময়কালের জন্য ২.৫৫ লক্ষ পঞ্চায়েত ও ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় সংস্থার জন্য ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করেছে ষোড়শ অর্থ কমিশন। তবে কোন প্রকল্পে কোন কার্ড লাগবে, তা নিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত স্পষ্ট চিত্র মিলবে না।

