- Home
- Business News
- 8th Pay Commission: ৮ম বেতন কমিশনের কাছে রেলকর্মীদের ৬ দফা দাবি, বেতন-পদোন্নতি ও ভাতা, কী চাইছে AIRF
8th Pay Commission: ৮ম বেতন কমিশনের কাছে রেলকর্মীদের ৬ দফা দাবি, বেতন-পদোন্নতি ও ভাতা, কী চাইছে AIRF
8th Pay Commission AIRF Demands: ৮ম বেতন কমিশনের কাছে ৬ দফা দাবি পেশ করেছে AIRF। বেতন, পদোন্নতির সুযোগ ও অতিরিক্ত ভাতা নিয়ে রেলকর্মীরা কী চাইছেন, ট্র্যাক মেইনটেনার থেকে মহিলা লোকো পাইলট, সব জানুন এক নজরে।

বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে কাজ করছে ৮ম বেতন কমিশন
২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল ৮ম বেতন কমিশন। এর চেয়ারপার্সন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। কমিশন গঠনের পর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা, তাদের প্রস্তাব ও অভিযোগ শোনার কাজ চলছে। এখন সবার নজর, কমিশনের কাছে জমা পড়া দাবিগুলি শেষ পর্যন্ত কতটা গুরুত্ব পায় সেদিকে।

রিপোর্ট জমার জন্য কমিশনের হাতে সময় ১৮ মাস
কমিশনের টার্মস অফ রেফারেন্স (ToR) অনুযায়ী, গঠনের দিন থেকে ১৮ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যেই যোগ্য কর্মচারী সংগঠনগুলির ভাবনা, প্রস্তাব ও অভিযোগ শুনতে হবে কমিশনকে। তাই এই সময়ে সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে একের পর এক স্মারকলিপি ও দাবিপত্র জমা পড়ছে।
রেল কর্মীদের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি পেশ AIRF-এর
অল ইন্ডিয়া রেলওয়েমেন্স ফেডারেশন (AIRF) কমিশনের সামনে মোট ৬টি প্রধান দাবি রেখেছে। এগুলির মূল লক্ষ্য হল ভালো বেতন, পদোন্নতির আরও সুযোগ এবং অতিরিক্ত ভাতা। ফেডারেশনের বক্তব্য, এই দাবিগুলি পূরণ হলে কর্মরত রেলকর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী, দু'পক্ষের জীবনেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
৩০ অক্টোবর কমিশনের সঙ্গে পরামর্শমূলক বৈঠক
২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর কমিশনের প্যানেলের সঙ্গে পরামর্শমূলক বৈঠকে বসেছিল AIRF। সেখানে রেলের বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। বৈঠকের পর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শিবগোপাল মিশ্র সুপারিশগুলি একটি চিঠির মাধ্যমে সংগঠনের অধীনস্থ ইউনিটগুলিকে জানিয়েছেন।
ট্র্যাক মেইনটেনার, মহিলা লোকো পাইলট ও ট্রেন ম্যানেজারদের সমস্যা
বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে এসেছে ট্র্যাক মেইনটেনার, মহিলা লোকো পাইলট এবং ট্রেন ম্যানেজারদের মতো কর্মীদের সমস্যার কথা। ফেডারেশনের মতে, এই বিভাগের কর্মীদের কাজের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ আলাদা। তাই বেতন ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা ঠিক করার সময় এই পার্থক্যগুলি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কঠিন দায়িত্ব ও ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ভালো বেতনের যুক্তি
AIRF-এর যুক্তি, রেলকর্মীদের দায়িত্ব অত্যন্ত কঠিন। কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা পেশাগত ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য বিপদ। পাশাপাশি ভারতীয় রেলের দ্রুত আধুনিকীকরণ চলছে। এই সবকিছু বিবেচনা করে কর্মীদের আরও ভালো বেতন এবং চাকরিসংক্রান্ত সুযোগসুবিধা পাওয়া উচিত বলে মত ফেডারেশনের।
আধুনিক রেলের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন বিশেষ দক্ষতা
ফেডারেশনের প্রস্তাব, রেলকর্মীদের বেতন কাঠামোয় আধুনিক রেল পরিচালনার ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত চাহিদার প্রতিফলন থাকা দরকার। বিশেষ করে রোলিং স্টক, সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও উন্নত দক্ষতা লাগে। সর্বশেষ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাও তাঁদের কাজের অংশ।
১০ বছরে একবারই সুযোগ, তাই দাবির গুরুত্ব অনেক বেশি
কর্মচারী সংগঠনগুলি নতুন বেতন কমিশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিজেদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ পায় সাধারণত ১০ বছরে একবারই। তাই এই সময়ে পেশ করা দাবিগুলির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অনেক বেশি। রেলকর্মীদের ভবিষ্যৎ বেতন কাঠামো ও সুযোগসুবিধা অনেকাংশেই নির্ভর করছে কমিশনের সুপারিশের ওপর।
শুধু AIRF নয়, অন্য সংগঠনগুলিও জমা দিয়েছে প্রস্তাব
রেলকর্মীদের সংগঠন ছাড়াও NC-JCM (ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি)-এর স্টাফ সাইড, BMS (ভারতীয় মজদুর সংঘ), BPMS (ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সংঘ) এবং আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন গত কয়েক মাসে কমিশনের কাছে নিজেদের প্রস্তাব ও মতামত জানিয়েছে। সবার লক্ষ্য একটাই, কর্মরত কর্মী ও পেনশনভোগীদের জীবনে গঠনমূলক পরিবর্তন আনা।
এগুলি এখনও শুধুই প্রস্তাব, চূড়ান্ত রিপোর্ট আসবে ২০২৭-এর মে-জুনে
কমিশন প্রতিটি প্রস্তাব খতিয়ে দেখবে এবং তথ্য বিশ্লেষণ করেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। আপাতত ধরে নেওয়া হচ্ছে, ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ হতে পারে। তার আগে পর্যন্ত এই দাবিগুলি শুধুই প্রস্তাব, অনুমোদিত বেতনবৃদ্ধি বা ভাতা নয়। দাবিগুলি বাস্তবে রূপ পাবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ এবং তার পর কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। কমিশনের সর্বশেষ আপডেট দেখা যাবে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে: 8cpc.gov.in।

