চলতি বছরের অক্টোবর মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীদের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। সূত্রের খবর, সেই সম্মেলন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেওয়ার পর এবং জম্মু ও কাশ্মীরের ওপর থেকে রাজ্যের মর্যাদাও সরিয়ে দিয়ে এটিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করার সময়েই কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছিল যে, সেখানে প্রথম আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীদের সম্মেলন করা হবে, এবার সেই সম্মেলনই পিছিয়ে দেওয়া হল বলে জানা গিয়েছে। 

সেইসময়ে সরকারের তরফে বলা হয়েছিল যে, সংবিধানের ৩৫এ ধারার কারণে বহিরাগতরা কাশ্মীরে জমি কিনতে পারতেন না, তাই তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে শিল্পপতিদের জন্য বিনিয়োগের এক নয়া পথ উন্মোচিত হবে। কিন্ত বৃহস্পতিবার জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের তরফে এই সম্মেলন আপাতত স্থগিত রাখা হল বলে জানানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন- ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ২২২ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান, চলতি বছরে সংখ্যাটা ১৯০০

আরও পড়ুন -মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মঘাতী পুলিশকর্মী, মৃত্যু ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য

আরও পড়ুন- এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার খবরে প্রাণ গেল এক মহিলার, তদন্তে উঠে এল রিপোর্ট ভুয়ো

আরও পড়ুন- দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ না করে স্বাভাবিক প্রতিবেশী হন, পাকিস্তানকে তোপ কেন্দ্রের

জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য প্রশাসনের তরফে একজন শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, আট থেকে দশটি কোম্পানী সে রাজ্যে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। সেই মর্মে তাঁরা একাধিক প্ল্যানও দিয়েছিল বলে খবর। এমনকী আরও অনেক কোম্পানিই সেরাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সম্মেলনে বিভিন্ন কোম্পানির সমবেত হওয়াটা ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। 

সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, অক্টোবর মাসের ১২ থেকে ১৪ তারিখের মধ্যে লগ্নিকারীদের এই সম্মেলন প্রথমবারের জন্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের অবশ্য মন্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিচার করে  আগে থেকেই সেখানে লগ্নিকারীদের সম্মেলনের ঘোষণা করা ঠিক হয়নি বলে জানান অনেকে। তবে প্রসঙ্গত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রদানের পরে প্রায় এক মাস হতে চললেও জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনও বদলায়নি। এখনও সেখানে কড়া পাহাড়ায়ে মোতায়েন রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী, যোগাযোগ ব্যবস্থারও সেই অর্থে উন্নয়ন ঘটেনি। মুলধারার রাজনীতিবিদ এবং আরও অন্যান্য নেতারা এখনও গৃহবন্দি। উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে এখনও কার্যত ক্ষুব্ধ সেই অঞ্চলের বাসিন্দারা।