হাতে আর সময় মাত্র এক দিন, আর তার পরই প্রকাশিত হবে এনআরসি-র রিপোর্ট। তবে এই এনআরসি তালিকা কার্যত রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে অসমের অসংখ্য মানুষের। যাঁদের নাম এই এনআরসি তালিকাভুক্ত নয়, তাঁদের কাছে বিষয়টি কার্যত একটা মানসিক নির্যাতনে পরিণত হয়েছে। 

এই এনআরসি-কে কেন্দ্র করে ফের একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। অসমের করিমগঞ্জ জেলার সোনাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রীতিভূষণ দত্ত নামে এক ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, তাঁর স্ত্রী নমিতা দত্তের নাম এনআরসি-র খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল,  আর তার জেরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। আর সেই আতঙ্ক ও অবসাদ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে বেছে নিলেন মৃত্যুর পথ। নিজের বাড়ির বারান্দায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন প্রীতিভূষণ দত্ত। 

প্রতিবেশীদের কথায় স্ত্রীয়ের নাম  এনআরসি তালিকায় উঠবে কি না, সেই নিয়ে চরম উদ্বেগেই দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রী নমিতার কথায়, তিনি তাঁকে প্রায়ই বলতেন, তাঁকে নাকি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, এমনকী  ডিটেনশন ক্যাম্পে তাঁকে রাখা হলেও প্রীতিভূষণ বাবুর সঙ্গে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হবে না, এমন ভাবনাই ভাবাত তাঁকে। 

আরও পড়ুন- এই মুহূর্তে দেশের সেরা দশ খবর, যাতে আপনাকে রাখতেই হবে চোখ

আরও পড়ুন -মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মঘাতী পুলিশকর্মী, মৃত্যু ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য

বিষয়টি মানসিক সমস্যার দিকে এগোচ্ছে এই আশঙ্কা থেকেই তাঁকে চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যান তাঁর স্ত্রী। কিন্তু ফিরে এসে এনআরসির কাগজপত্রই নাড়াচাড়া করছিলেন তিনি। তারপর খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমোতে যান দুজনেই। তারপর দরজা খোলার শব্দ পান নমিতা। অনেকক্ষণ তাঁর স্বামীকে ফিরে আসতে না দেখে বাইরে গিয়ে স্বামীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন নমিতা। 

আরও পড়ুন- এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার খবরে প্রাণ গেল এক মহিলার, তদন্তে উঠে এল রিপোর্ট ভুয়ো

প্রসঙ্গত এনআরসি রিপোর্ট প্রকাশের আগে অসমের গুয়াহাটিতে প্রশাসনর তরফে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। খসড়া তালিকা থেকে থেকে বাদ পড়েছে প্রায় চল্লিশ লক্ষ মানুষ। তাদের মধ্যে ৩ লক্ষ ৯৬ হাজার মানুষ আবার আবেদনই জানাননি। নাম বাদের তালিকায় আছেন ১ লক্ষ ২ হাজার মানুষ। প্রসঙ্গত নমিতা দত্তের বাবার বাড়ি ত্রিপুরায়। তাঁর বাবার নথিপত্র পেশ করার পর সেগুলির যাচাইয়ের জন্য ত্রিপুরায় পাঠানো হয়। যদিও সেই নথি আজও ফিরে আসেনি পরে তিনি সেগুলি ফের যাচাইয়ের জন্য আবেদন জানান, কিন্তু তাও চিন্তামুক্ত হতে পারেননি প্রীতিভূষণ, আর তার জেরেই এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।