Asianet News BanglaAsianet News Bangla

বাবাকে খুন করে স্যুটকেসে হাত-পা- গোপনাঙ্গ, পালিত কন্যাকে ধরিয়ে দিল সোয়েটার

  • মুম্বইয়ে পালিত কন্যার হাতে খুন বাবা
  • ঘটনায় ধৃত এক নাবালকও
  • প্রেমিকের সঙ্গে মিলে পালক পিতার দেহ টুকরো করে মেয়ে
  • নিহতের বিরুদ্ধে পালিত কন্যার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
     
Adopted daughter and her minor lover arrested for killing a man in Mumbai
Author
Kolkata, First Published Dec 8, 2019, 3:14 PM IST

বাবাকে খুনের পর দেহ টুকরো টুকরো করে নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়েছিল পালিত মেয়ে। তাকে সঙ্গ দিয়েছিল তার নাবালক বয়ফ্রেন্ড। শেষ পর্যন্ত একটি সোয়েটারের সূত্র ধরে মুম্বইয়ের এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ। নিহতের অভিযুক্ত মেয়ে এবং তার নাবালক বয়ফ্রেন্ডকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মৃতের নাম বেনেট রোবেলো (৫৯)। তাঁর পালিত ওই মেয়ের বয়স ১৯। আর ওই তরুণীর বয়ফ্রেন্ডের বয়স ১৬। 

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৭ নভেম্বর নিজের পালক পিতাকে খুন করে অভিযুক্ত প্রিয়া (নাম পরিবর্তিত)। মুম্বইয়ের দ্বারকা কুঞ্জে নিজের বাড়িতেই খুন হন বেনেট। প্রিয়া এবং তার বয়ফ্রেন্ড মিলে ছুরি এবং বাঁশ দিয়ে মেরে বেনেটকে খুন করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁর নাকে, মুখের ভিতরে একটি মশা মারার ওষুধ স্প্রে করে দেওয়া হয়। 
কিন্তু কেন নিজের পালক পিতার প্রতি এতটা নৃশংস হল প্রিয়া? তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ওই নাবালকের সঙ্গে প্রিয়ার সম্পর্ক মেনে নেয়নি বেনেট। নিজের পালিত কন্যার উপরে বেনেট যৌন নিপীড়নও চালাতেন বলে অভিযোগ। 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর একটি ছুরি দিয়ে বেনেটের দেহ টুকরো টুকরো করে দুই অভিযুক্ত। এর পর দেহাংশ একটি স্যুটকেস- সহ তিনটি ব্যাগে ভরে মুম্বইয়ের মিথি নদীতে ফেলে দেয় অভিযুক্তরা। মোট তিন দিনে ধাপে ধাপে বেনেটের দেহ নদীর জলে ফেলে দেয় প্রিয়া এবং তার নাবালক বয়ফ্রেন্ড। পরে একটি স্যুটকেসের মধ্যে থেকে বেনেটের একটি হাত, একটি পা এবং গোপনাঙ্গ উদ্ধার হয়। 

আরও পড়ুন- সমুদ্রে ভাসছে রহস্যময় কালো স্যুটকেস, খুলতেই মিলল কাটা হাত-পা-গোপনাঙ্গ, দেখুন ভিডিও

স্যুটকেসের মধ্যে থেকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহাংশ উদ্ধারের পরেই তদন্তে নামে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের পাঁচ নম্বর ইউনিট। আর খুনের রহস্য উন্মোচনে তাদের সাহায্য করে একটি সোয়েটার। 
স্যুটকেসের মধ্যে ওই সোয়েটার দিয়েই দেহাংশ মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। সেই সোয়েটারটির গায়ে কুরলার একটি দোকানের স্টিকার পান তদন্তকারীরা। সেই দোকানে গিয়েই বেনেটের নামে একটি রসিদ তাঁদের হাতে আসে। 

এর পর বেনেটের নাম দিয়ে ফেসবুকে খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। খোঁজ মেলে বেনেটের প্রোফাইলের। ফেসবুকে বেনেটের একটি ছবিতে তাঁকে স্যুটকেসের মধ্যে থেকে উদ্ধার হওয়া সোয়েটারটি পরে থাকতে দেখা যায়। এর থেকেই মৃতের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। ফেসবুকের একটি পোস্টে বেনেটের ভিজিটিং কার্ডও পায় পুলিশ। সেখান থেকেই বেনেটের ঠিকানা ধরে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। কিন্তু সেই সময় বেনেটের বাড়ি তালাবন্ধ ছিল। 

প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁরা বেনেটকে দেখেননি। প্রতিবেশীরাই জানান, বেনেট পেশায় একজন গিটারিস্ট ছিলেন। বেনেটের পালিত কন্যা প্রিয়া এবং তার বয়ফ্রেন্ডেরও খোঁজ পান তদন্তকারীরা। এর পরই দুই অভিযুক্তকে আটক করে টানা জেরা করা হয়। একসময় জেরায় ভেঙে পড়ে সত্যিটা স্বীকার করে নেয় দুই অভিযুক্ত। তারা দাবি করে, সম্পর্কে বাধা দিয়ে প্রিয়ার উপর যৌন নির্যাতন চালাতেন বেনেট। সেই আক্রোশেই তাঁকে খুন করতে বাধ্য হয়েছে তারা।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, পরিকল্পিতভাবেই ওই দু' জন বেনেটকে হত্যা করেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দু' বছর আগে প্রিয়াকে দত্তক নিয়েছিলেন বেনেট। প্রিয়ার আসল বাবা মা ঘাটকোপরে থাকে। ওই নাবালকও সেখানকারই বাসিন্দা। 

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios