Aerospace Engineering: অতি সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহ এবং উৎক্ষেপণ যান তৈরির কাজ বেসরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতেই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। কারণ, তাদের পক্ষে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জটিল গবেষণার কাজ করা সম্ভব নয়।

Aerospace Engineering: মোদী সরকারের আমলে বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে ‘ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজ়েশন’ তথা ইসরোয়। আগামীদিনে অতি সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে শুরু করে উৎক্ষেপণ যান, সেই সমস্ত কিছু তৈরি করবে বেসরকারি সংস্থা (Aerospace Engineering)। তবে জটিল মহাকাশ গবেষণার বিষয়ে ইসরোর উপরেই ভরসা রাখতে চলেছে কেন্দ্র। এই প্রসঙ্গে ইন-স্পেস-এর চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, ‘‘ইসরোর রূপান্তর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। কারণ, এই প্রতিষ্ঠানের জটিল মহাকাশ গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অভিযান এবং পরিকাঠামোগত উন্নতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় চলে এসেছে এবার।’’

কৃত্রিম উপগ্রহ-উৎক্ষেপণ যান সবই বানাবে বেসরকারি কোম্পানি!

ISRO Recruitment 2026: ইসরো ৯৩টি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে! গেট (GATE) স্কোরের ভিত্তিতে করা হবে নির্বাচন

তাই অতি সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহ এবং উৎক্ষেপণ যান তৈরির কাজ বেসরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতেই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। কারণ, তাদের পক্ষে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জটিল গবেষণার কাজ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রমোশন অ্যান্ড অথরাইজ়েশন সেন্টার’ বা ইন-স্পেস কেন্দ্রের মহাকাশ দফতরের অধীনস্থ একটি স্বশাসিত সংস্থা, যার মাথায় বসে রয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজ়নেস টুডের একটি আলোচনাচক্রে ইন-স্পেসের চেয়ারম্যান বলেন, “বেসরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে ইসরো। তার উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে উৎক্ষেপণ যান এবং অতি সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহ। সেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের (এসএসএলভি) মধ্য দিয়ে। নিলাম করে এটির প্রযুক্তি এবং উৎপাদনের স্বত্ত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হ্যাল) হাতে তুলে দিয়েছে তারা।"

পরবর্তী পর্যায়ে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি) এবং লঞ্চ ভেহিকল মার্ক-৩ (এলভিএম-৩)-এর প্রযুক্তি এবং উৎপাদন স্বত্ব ছেড়ে দেবে ইসরো। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং কর্মক্ষম রকেট হল এলভিএম-৩। সেগুলির নিলামে থাকতে পারবে না কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। অতএব, পিএসএলভি এবং এলভিএম মার্ক-৩ তৈরির দায়িত্ব যে পাকাপাকিভাবে বেসরকারি সংস্থার হাতে যেতে চলেছে, সেই কথা বলাই বাহুল্য। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই একাধিক বেসরকারি সংস্থাকে ১২০টি টেকনোলজি হস্তান্তর করেছে ইসরো। পাশাপাশি একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও বেসরকারি শিল্প সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

Gaganyaan Mission: গগনযানের পথে আরও এক ধাপ, একসঙ্গে ৩টি জটিল পরীক্ষায় সফল ইসরো!

তবে পবন গোয়েঙ্কা মনে করেন, বেসরকারিকরণের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গেলে মূলত তিনটি চালিকাশক্তির প্রয়োজন পড়বে। সেগুলি হল, সরকারের চাহিদা, শিল্প সংস্থাগুলির দ্বারা জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রযুক্তির ব্যাপক এবং বৃহত্তর ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সম্প্রসারণ। প্রসঙ্গত, এতদিন অবধি জাতীয় সুরক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কৃত্রিম উপগ্রহগুলিও তৈরি করত ইসরো। কিন্তু নতুন কেন্দ্রীয় নীতির জেরে সেখানেও খুল্লামখুল্লা পা রাখার সুযোগ পাচ্ছে বেসরকারি সংস্থা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর জন্য ৩১টি উপগ্রহ নির্মাণের বরাত পেয়েছে তারা। অন্যদিকে, একটি বড় প্রোজেক্টের অধীনে ২১টি কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করবে ইসরো।

এদিকে ইসরোকে নিয়ে কেন্দ্রের এহেন সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এক্ষেত্রে এই মডেলের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণার অনেকটা মিল রয়েছে। আমেরিকার সরকারি জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থার নাম ‘ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা নাসা। এই সিদ্ধান্ত তাদের মডেলের সঙ্গে অনেকটা খাপ খাচ্ছে। বর্তমানে এই খাতে ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ কেন্দ্রীয় সরকার। তবে ২০৩৩ সালের মধ্যে সেই টাকার পরিমাণটা ৪,৪০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। আর সেটা বেসরকারি বিনিয়োগ ছাড়া কোনও অবস্থাতেই সম্ভব নয়।

মোদীর নীতিতে ভুগবে ইসরো? নাকি খুলবে নতুন দিগন্ত

তবে উল্টো আরেকটা দিকও দেখা যাচ্ছে। ২০১২-২৪ সালের মধ্যে ইসরো থেকে প্রায় ৭০০ বিজ্ঞানী ইস্তফা দেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১০৫০টি শূন্যপদ পূরণের কাজ চলছে। প্রাক্তন গবেষকদের অনেকের দাবি, জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলির দ্রুত উন্নতি ঘটছে। কারণ, সেখানকার দুর্দান্ত বেতন এবং উন্নত ক্যারিয়ারের হাতছানি বহু মানুষই অগ্রাহ্য করতে পারেন না। আর এই প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে আগামীতে ধীরে ধীরে ইসরো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে। আসলে অনেক বিজ্ঞানীর মতে, সরকারি সংস্থা হওয়ার জেরে ইসরোর কিছু সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এবার এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রবেশের জেরে তাদের একাধিক মিশনে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তাছাড়া নতুন কর্মী দিয়ে শূন্যপদ পূরণ করা গেলেও অভিজ্ঞ গবেষকের অভাব মেটানো বেশ কঠিন হতে পারে।

বর্তমানে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস, পিক্সেল, বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেস, ধ্রুব স্পেস এবং দিগন্তরা-র মতো আরও বেশ কিছু স্টার্টআপ সংস্থা ভারতের মহাকাশশিল্পের চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে। তাছাড়া ইসরোর তুলনায় এই সমস্ত বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলি আকর্ষণীয় হওয়ায় বহু গবেষকই সরকারি মহাকাশ সংস্থা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমনকি, ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস সোমনাথ নিজেও সংস্থার বেতন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, আইআইটি বা দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিভাবান পড়ুয়ারা মহাকাশ গবেষণায় আগ্রহী হলেও কম বেতনের কারণে, ইসরোর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এখানকার সর্বোচ্চ পদের বেতন আড়াই লক্ষ টাকা। যেখানে বেসরকারি সংস্থায় চাকরিজীবনের শুরুতেই এই টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।

কিন্তু দেশের নিরাপত্তা? প্রশ্ন সেখানেই। সাবেক বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ আবার মনে করছেন, মহাকাশভিত্তিক গবেষণা নয়! আসলে বেসরকারি সংস্থার প্রধান লক্ষ্য হল মুনাফা লুটে নেওয়া। ফলে, প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহগুলির নির্মাণের কাজ কতটা গুরুত্ব সহকারে তারা করবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলে ভয়ঙ্কর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। উল্লেখ্য, জুলাই মাসেই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় প্রথম বেসরকারি স্পেস রকেট ‘বিক্রম ১’-এর সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে। এটির নির্মাণকারী সংস্থা হল স্কাইরুট এরোস্পেস। রকেটের সঙ্গে যে পেলোডগুলি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘এমব্রেস মিশন’। এটি একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্র, যেটি মহাকাশের কক্ষপথ জঞ্জালমুক্ত রাখতে ব্যবহার করে থাকেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। অপরদিকে, মহাকাশে নভশ্চর পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর। নিজস্ব মহাকাশ স্টেশনও তৈরি করবে ভারত। এই মিশনগুলিতে বেসরকারি সংস্থার দায়িত্বে আসার সম্ভাবনা বেশ কম।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।