চন্দ্রযানের সাফল্যের পর এবার সূর্য অভিযান করতে চলেছে ইসরো ২০২০ সালে সূর্যে মহাকাশযান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ইসরো  আদিত্য এল-১ নামের একটি মহাকাশযানকে ব্যবহার করা হবে এই সফরে মহাকাশে ভারত নিজেদের মহাকাশ স্টেশনও তৈরি করবে

চাঁদের পর এবার সূর্য। মহাকাশ গবেষণায় ভারতীয় সংস্থা ইসরো এখন এটাই পাখির চোখ। এর জন্য ইতিমধ্যেই মহাকাশযানকে তৈরি করা হচ্ছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে আদিত্য এল-১। ইসরোর সূত্র মতে ২০২০ সালের শুরুতেই এই অভিযানের দিনক্ষণ ঠিক করার পরিকল্পনাও প্রায় পাকা করে ফেলা হয়েছে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সৌরজগতের কেন্দ্রীয় গ্রহ হল সূর্য। যার তাপে-ই রয়েছে এই সৌরজগতের জিয়নকাঠি। সূর্য-এর জন্ম এবং তার থেকে উদগিরণ হওয়া বিশাল তাপমাত্রা নিয়ে বহুদিন ধরেই বৈজ্ঞানিক মহলে চর্চা চলছে। অনেকে ইতিমধ্যেই সূর্য নিয়ে একাধিক গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু, এসবের কোনওটাই সূর্যের বুক থেকে তুলে আনা তথ্য বা নমুনার ভিত্তিতে নয়। সূর্য নিয়ে যে গবেষণাপত্র এতদিন প্রকাশ পেয়েছে হয় তা পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন অঙ্ক সাপেক্ষ অনুমান নির্ভর ব্যাখ্যা বা পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন বেসিক থিওরির উপরে ভরসা রেখে। বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক লেখক স্টিফেন হকিং বিগ ব্যান থিওরি নামে একটি বই-ও লিখেছেন এবং তা দশকের পর দশক বেস্ট সেলার-এর তালিকায় ছিল। সূর্য-কে নিয়ে যত কিছুই লেখা হোক না কেন কোনও বিজ্ঞানী নিশ্চিতভাবে তা দাবি করে উঠতে পারেননি যে সূর্য নিয়ে তাঁর বলা কথাগুলো এক্কেবারে সঠিক। মনে করা হয় সূর্যের রহস্যভেদ সম্ভব হলে পদার্থবিদ্যার বহু রহস্য কেটে যাবে। এমনমকী, পদার্থবিদ্যায় নতুন দিকেরও উন্মোচন হওয়ারও আশা রয়েছে। 

ইসরোর প্রধাণ কে শিবন সাংবাদিক বৈঠকে চন্দ্রযান অভিযানের বিষয়ে বলার সময় এই পরিকল্পনার কথা জানান। নতুন বছরের শুরুতেই এই সূর্য অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই অভিযানের প্রধাণ উদ্দেশ্য হল সূর্যের কিরণ, সৌর-অগ্নি, তাপমাত্রা, চৌম্বক-ক্ষেত্র এবং পৃথিবীর উপর এর প্রভাব সহ অন্যান্য পরীক্ষাও করা হবে। সম্বন্ধে অজানা তথ্যের খোঁজ। সূর্যের চারপাশে মহাকাশযান আদিত্য এল-১ প্রদক্ষিণ করে সূর্য কোরোনা সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। সংস্থার প্রধাণ কে শিবন এই বিষয়ে জানিয়েছেন, 'তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর অনেক কাছের হওয়া সত্ত্বেও সূর্য সম্পর্কে অনেক কিছু বিষয়ে আমরা অবগত নই। তাই আদিত্য এল-১ এর সাহায্য সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছে এই বিষয়ে গবেষণা করবেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।' শুধু এই নয়, মহাকাশে ভারত নিজেদের মহাকাশ স্টেশনও তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই মিশনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও সময় নির্ধারিত না হলেও দু-এক বছরের মধ্যেই সূর্য অভিযানের উদ্দেশ্যে পারি দেবে ভারত, এমনটাই জানা গিয়েছে সংস্থার তরফ থেকে। সূর্য ছাড়া মঙ্গল গ্রহেও ল্যান্ডার ও রোভার নামানোর পরিকল্পনা করেছে ইসরো। যাতে মঙ্গলের পৃষ্ঠ, পরিবেশ, বিকিরণ, ঝড়, তাপমাত্রা ইত্যাদির অধ্যয়ন করা যেতে পারে। সন্দেহ নেই চন্দ্রাভিযানের সাফল্য ভারতের মহাকাশ গবেষণা-কে অনেকটা এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে। আর যার সুফল হল সূর্যের বুকে মহাকাশযান পাঠানো।