গুজরাটের পঞ্চমহল জেলার একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল 'ম্যাথস পার্ক' তৈরি করে গণিত শেখার পদ্ধতিতে নতুনত্ব এনেছে। ছাত্রছাত্রীরা এখানে খেলাধুলার মাধ্যমে অঙ্ক শেখে। তাদের মতে, এতে অঙ্ক বোঝা সহজ হচ্ছে এবং প্রাইভেট টিউশনের দরকারও কমছে।

অঙ্ক মানেই কি ক্লাসরুমের চার দেওয়াল আর খাতার মধ্যে আঁকিবুকি? এই ধারণাটাই বদলে দিচ্ছে গুজরাটের পঞ্চমহল জেলার একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল। এখানকার নবা নাদিসার প্রাইমারি স্কুলে তৈরি করা হয়েছে এক অভিনব 'ম্যাথস পার্ক'। এখানে গতানুগতিক ক্লাসের বদলে খেলা, বাইরের অ্যাক্টিভিটি আর হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা গণিতের ধারণা স্পষ্ট করে নিচ্ছে।

এই পার্কে রয়েছে নাম্বার লাইন, অ্যাবাকাস, জ্যামিতির মডেল এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক খেলা। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা শারীরিক কসরতের সঙ্গে গণিতকে মেলাতে পারছে, যা বিষয়টিকে আরও আকর্ষণীয় এবং সহজ করে তুলেছে।

অঙ্ককে আনন্দদায়ক করে তোলা

শিক্ষক শান্তিলাল জানান, প্রতিটি শিশুর কাছে গণিতকে আনন্দদায়ক ও সহজ করে তোলার জন্যই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, "এই ম্যাথস পার্কে আমরা খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার জায়গা তৈরি করেছি। এতে বাচ্চারা শারীরিক কসরতের সঙ্গে অঙ্ককে মেলাতে পারে। এর ফলে তারা মজার ছলে, সহজ উপায়ে গণিতের কঠিন ধারণাগুলোও বুঝে যায়। গণিত শেখাকে সহজ, আকর্ষণীয় এবং আনন্দদায়ক করে তুলতেই আমরা এই ম্যাথস পার্ক তৈরি করেছি।"

ছাত্রছাত্রীদের উপর ইতিবাচক প্রভাব

স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও জানাচ্ছে, এই নতুন পদ্ধতিতে তাদের পড়াশোনায় काफी সুবিধে হয়েছে। দর্শনা নামে এক ছাত্রী জানায়, ম্যাথস পার্কের কারণে অঙ্ক শিখতে এখন খুব মজা লাগে এবং সবকিছু সহজে বোঝা যায়। শিক্ষকরাও খেলার ছলে সব বুঝিয়ে দেন।

অন্য এক ছাত্র, হার্দিক জানায়, এই পার্কের সাহায্যে সে অঙ্কের ফর্মুলাগুলো সহজে বুঝতে পারে এবং সমস্যা সমাধান করতে পারে। সে বলে, "স্যাররা সব কিছু এত ভালোভাবে বুঝিয়ে দেন যে, স্কুলেই আমার সব পড়া হয়ে যায়। তাই আমার আর আলাদা করে টিউশন নেওয়ার দরকারই পড়ে না।"

ধারণা বদল ও স্বীকৃতি

স্কুলের শিক্ষক ও প্রিন্সিপালের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় কারিগরদের সাহায্যে এই ম্যাথস পার্কটি তৈরি করা হয়েছে। প্রিন্সিপাল রাকেশ প্যাটেল বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গণিত নিয়ে ধারণাটাই বদলে গেছে। তিনি বলেন, "আগে অঙ্ক মূলত পাঠ্যবই আর ক্লাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ম্যাথস পার্কের মাধ্যমে বাচ্চারা এখন হাতে-কলমে কাজ করে শিখছে। অঙ্ক এখন আর তাদের কাছে বোঝা নয়, বরং একটা মজার বিষয় হয়ে উঠেছে।"

এই অভিনব শিক্ষণ পদ্ধতির জন্য নবা নাদিসার প্রাইমারি স্কুলটি 'পিএম শ্রী মডেল স্কুল' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্কুল দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে হাতে-কলমে এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার পদ্ধতি সরকারি স্কুলের শিক্ষার মান উন্নত করতে পারে এবং ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে আরও মনোযোগী করে তুলতে পারে।