উত্তরপ্রদেশের ফারুকাবাদে অপহৃত ২৩টি শিশুকে অবশেষে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হল। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাদের উদ্ধার করে কমান্ডো বাহিনী।  তারা প্রত্যেকেই সুস্থ রয়েছে বলে জান গেছে।

এদিকে পণবন্দি শিশুদের উদ্ধার অভিযান চলার সময় সন্দেহভাজন অপহরণকারীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম সুভাষ বথাম বলে জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের আইজি (কানপুর) মোহিত আগরওয়াল।

বৃহস্পতিবার মেয়ের জন্মদিনের পার্টিতে ২০টি শশুকে নিমন্ত্রণ করেছিল সুভাষ। দুপুরে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে শিশুরা যেতেই তাদের পণবন্দি করা হয়। সুভাষ বথামের বিরুদ্ধে আগেও খুনের অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: গুলিচালানোর আগে লাইভ স্ট্রিম, জামিয়াকাণ্ডে বন্ধ হল অভিযুক্তের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট
 
বৃহস্পতিবার দীর্ঘসময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও শিশুগুলি বাড়িতে না ফেরায় সন্দেহ বাড়তে থাকে পরিজনদের মধ্যে। সুভাষ মেয়ের জন্মদিনে আসা গ্রামের কয়েকজন মহিলাকেও পণবন্দি করে। গ্রামের লোকেরা খোঁজ নিতে সুভাষের বাড়ি গেলে তাদের দিকে বোমা ছুঁড়তে শুরু করে অভিযুক্ত। 

খবর পেয়ে শিশুগুলিকে উদ্ধার করতে হাজির হয় পুলিশ বাহিনী। তাদের লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে অপহরণকারী। পুলিশ সমঝোতা করার চেষ্টা করলে সুভাষ জানায় তার কাছে ৩০ কিলো বিস্ফোরক মজুত রয়েছে। 

আরও পড়ুন: কাশ্মীরে ফের পুলিশের উপর হামলা, পাল্টা গুলিতে মৃত্যু ৩ জঙ্গির

রাতের শিশুগুলিকে উদ্ধার করতে বাসভবনে জরুরি বৈঠকে বসেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। উদ্ধার কাজে রাতেই বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর একটি দলকে ফারুখাবাদের ওই গ্রামে পাঠান হয়। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়  রাজ্যপুলিশের আইজি (কানপুর) মোহিত আগরওয়ালকে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাফল্য মেলে।

প্রায় ১০ ঘণ্টার অভিযান শেষে অপহৃত সবকটি শিশুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। যার মধ্যে একটি শিশুর বয়স ছিল এক বছর। নিজের স্ত্রী ও মেয়েকেও আটকে রেখেছিল সুভাষ। তাদেরও উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানে খতম করা হয় অপহরণকারী সুভাষ বথাম।

শিশুদের নিরাপদে উদ্ধার করায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের জন্য ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে যোগী সরকার।