কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতির প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে ধর্মঘট ডাকে দশটি শ্রমিক সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি, এইচএমএস, সিটু, এআইইউটিইউসি, টিইউসিসি, এসইউব্লিউএ, এআইসিসিটিইউ, এলপিএফ এবং ইউটিইউসি। এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের অন্তত ৬০টি সংগঠন এদিনের ধর্মঘটে সামিল হয়। ধর্মঘটে যোগ দিয়েছিল কৃষি শ্রমিকদের সংগঠনও। 

তবে দেশ জুড়ে ভারত বনধের মিশ্র সারা দেখতে পাওয়া গেল। মোদী সরকারের শ্রমবিরোধী নীতির প্রতিবাদে মিলিত ভাবে চেন্নাইয়ের মাউন্ট রোডে বিক্ষোভ দেখায়  শ্রমিক সংগঠনগুলি। 

আরও পড়ুন : বাম- কংগ্রেসের ডাকে ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট, জেলায়-জেলায় রেল ও বাস অবরোধ

পঞ্জাব ও হরিয়ানাতেও বনধের মিশ্র প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। চণ্ডীগড়ে এদিন সকাল থেকেই চলে বৃষ্টি। এদিন কৃষক সংগঠনগুলি অধিকাংশ দোকানদার ও ব্যবসায়ীকে দোকান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে বনধ চলাকালীন এই দুই রাজ্যে অপ্রীতিকর কোনও ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন : তেহেরান- ওয়াশিংটন উত্তেজনার মাঝেই কেঁপে উঠল ইরান, কম্পন অনুভূত হল পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে

শিবসেনা শ্রমিক সংগঠনগুলিকে সমর্থন জানালেও বনধের কোনও প্রভাব পড়ল না বাণিজ্য নগরীতে। আর পাঁচটা দিনের মত স্বাভাবিক ছিল মুম্বইয়ের জনজীবন। তবে কিছুটা হলেও বনধের প্রভাব দেখা গেছে  দেশের রাজধানীতে। এদিন মথুর রোড থেক কালিন্দি কুঞ্জ পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখে বনধ সমর্থকরা। 

ধর্মঘট সমর্থন করার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ট্যুইট করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ট্যুইটে রাহুল লেখেন, ধর্মঘটে অংশ নেওয়া ২৫ কোটি কর্মচারীকে আমার সেলাম।

 

 

ধর্মঘটে ভাল প্রভাব পড়েছিল পুদুচেরিতে। পথে দেখা যায়নি কোনও বাস, ট্রাক। সরকারি বাসও পথে নামেনি। বন্ধ ছিল দোকান-বাজার, রেস্কোঁরা, সিনেমাহল। ধর্মঘটের ভাল প্রভাব পড়েছিল কেরলেও।

 

 

শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা ধর্মঘটের সমর্থনে ওড়িশার ভুবনেশ্বরে পথে নামেন কংগ্রেস কর্মীরা। কালো পতাকা নিয়ে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। 

তবে সারা ভারতে বনধের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির পরিষেবায়। বরোদা, কানাড়া, সিন্ডিকেট ব্যাঙ্কের মত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির পরিষেবা ব্যাত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাজে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেসরকারি ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেও। আগেই ব্যাঙ্ক কর্মচারী ইউনিয়নের তরফে বনধে শামিল হওয়ার কথা স্টক এক্সচেঞ্জকে জানানো হয়েছে।