আদালত আগেই জানিয়েছিল, প্রকাশ্য় রাস্তায় প্রতিবাদীদের ছবি দিয়ে হোর্ডিং দেওয়া মোটেই ঠিক কাজ হয়নি। সোমবার আরও সুনির্দিষ্ট করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়ে দিল, ওই ধরনেরর সমস্ত হোর্ডিং খুলে ফেলতে হবে সাতদিনের মধ্য়ে।

প্রসঙ্গত, সিএএ বিরোধী অংশগ্রহণে হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে কংগ্রেস নেত্রী সদর জাফর, আইনজীবী মহম্মদ শোয়েব, নাট্য়কর্মী দীপক কবীর, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার দারাপুরী-সহ বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের কাছে নোটিস পাঠিয়েছিল যোগী সরকার। সরকারের স্পষ্ট নীতি ছিল, সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে যাঁরা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছিলেন, প্রয়োজনে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেই ক্ষতিপূরণের টাকা সরকারের ঘরে তুলে আনা হবে। এই নিয়ে প্রবল বিতর্ক শুরু হয় কিছুদিন আগে। প্রসঙ্গত, দেশের মধ্য়ে সিএএ বিরোধী দেশের মধ্য়ে সবচেয়ে বেশি উত্তাল হয় উত্তরপ্রদেশ। সেখানে সংখ্য়ালঘুদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে পুলিশের। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। আহত হন অসংখ্য়। যদিও গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে সরকার বলে, পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায়নি। সংঘর্ষে যারা যুক্ত ছিল, তাদেরই এক গোষ্ঠীর গুলিতে মারা গিয়েছে অন্য় গোষ্ঠীর লোকজন।

এমতাবস্থায়, উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার আরও কঠোর হয় বিক্ষোভকারীদের প্রতি। শুধু পুলিশি দমন পীড়ন আর অসংখ্য় গ্রেফতারই নয়, তারপরও চলতে থাকে প্রত্য়াঘাত। বিক্ষোভে থেকে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করার অভিযোগ কিছু লোককে অভিযুক্ত করে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নোটিস দেওয়া হয়। আর তারও পরে, একেবারে সম্প্রতি বিক্ষোভকারীদের ছবি দিয়ে বড় রাস্তার মোড়ে হোর্ডিং ঝুলিয়ে দেয় রাজ্য় সরকার। ওই হোর্ডিংয়ে নিজের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখা যায় সদর জাফরকে। সেই ছবি কার্যত ভাইরাল হয়ে যায় সোশাল মিডিয়ায়। দেশজুড়ে শুরু হয়ে প্রতিবাদের ঝড়। রবিবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টিকে গ্রহণ করে মন্তব্য় করে, কাজটা ঠিক হয়নি। এর ঠিক একদিনের মাথায় আদালত সরকারকে নির্দেশ দেয়, আগামী ১৬ মার্চের মধ্য়ে বিক্ষোভকারীদের ছবি দেওয়া যাবতীয় হোর্ডিং সরিয়ে ফেলতে হবে।