সোমবার রাতে লাদাখ সীমান্তে গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রয়োজন জবাব দিতেও প্রস্তুত ভারত। তারপরেও অবশ্য দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সূত্র বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই অবস্থায় বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও ভারত-চিন মেজর জেনারেল পর্যায়ের বৈঠকও নিষ্ফলাই থাকল। প্রায় ৬ ঘণ্টার বৈঠক করে  দু’দেশের সেনাকর্তারা।  তার পরেও অবশ্য পূর্ব লাদাখে ভারতের জমি ছেড়ে যাওয়ার কোনও লক্ষণ দেখায়নি পিপল্‌স লিবারেশন আর্মি। উল্টে দখল করা ভূখণ্ডে বৃহস্পতিবার নিজেদের শক্তি আরও বাড়িয়েছে চিনা সেনা। 

আরও পড়ুন: বাণিজ্যে এখনও ‘হিন্দি-চিনি ভাই ভাই’,মহারাষ্ট্রে ৭৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ চিনা গাড়ি সংস্থার

সীমান্তে যখন চিনকে নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা এই অবস্থায় ভারত সরকারকে ৩৩টি নতুন যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব দিল ভারতীয় বায়ুসেনা। ৩৩টি নতুন সামরিক বিমানের মধ্যে রাশিয়া থেকে ২১টি মিগ-২৯ ও ১২টি সুখোই-৩০এমকেআই কেনার কথা বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, বায়ুসেনা বেশ কিছুদিন ধরেই নতুন বিমান কেনার কথা বলছে। তবে সেই প্রক্রিয়ায় এবার গতি এসেছে। 

সোমবার রাতে সীমান্ত সংঘর্ষ ২০ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান শহিদ হওয়ার পর যুদ্ধ সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এই অবস্থায়  আগামী সপ্তাহে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের চূড়ান্ত ছাড়পত্রের পাওয়ার জন্য নতুন বিমান কেনার প্রস্তাবটি তোলা হতে পারে। পুরো প্রস্তাবের অর্থমূল্য হতে পারে ৬০০০ কোটি টাকার ওপর।

ছবিতে দেখুন: চোখের জলে শেষ বিদায় ঘরের ছেলেকে, পাটনা ঝাঁপিয়ে পড়ল হাবিলদার সুনীল কুমারের শেষযাত্রায়

 বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় বায়ুসেনা যেসব বিমান হারিয়েছে, সেগুলির বদলি হিসাবেই ১২টি এসইউ-৩০এমকেআই বিমান সংগ্রহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত দু’দশক ধরেই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম ভরসা হল সুখোই। কয়েক স্কোয়াড্রন সুখোই এখন সীমান্ত সংলগ্ন ফরওয়ার্ড বেসগুলিতে এনে রাখা হয়েছে। আগামী মাস থেকে অত্যাধুনিক রাফাল বিমানও আসতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে বায়ুসেনা। এদিকে সীমান্তে যুদ্ধ সম্ভাবনা বাড়তেই বিমান থেকে নিক্ষেপ যোগ্য ব্রহ্মস ক্রুজ মিসাইলকে ব্যবহারে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে ভারত সরকার। পাশাপাশি বায়ুসেনা, নৌসেনা ও স্থল বাহিনীকে সবরকম পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।