গান্ধীনগরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ CBDC-ভিত্তিক PDS সিস্টেম এবং 'অন্নপূর্তি' গ্রেন এটিএম-এর উদ্বোধন করেছেন। এখন ডিজিটাল রুপি এবং বায়োমেট্রিক পরিচয়ের মাধ্যমে রেশন পাওয়া যাবে। জানুন কীভাবে দেশের খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা বদলে যাবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি এখন আর শুধু ব্যাংকিং বা অনলাইন পেমেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রেশন বিতরণের মতো মৌলিক ব্যবস্থাও দ্রুত ডিজিটাল পরিকাঠামোতে রূপান্তরিত হচ্ছে। রবিবার গুজরাটের গান্ধীনগরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ 'সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি' (CBDC) ভিত্তিক পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS)-এর উদ্বোধন করেন। এই উদ্যোগটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া' স্বপ্নকে তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

কী এই CBDC-ভিত্তিক PDS মডেল?

এই নতুন ব্যবস্থাটি 'সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি' অর্থাৎ ডিজিটাল রুপির মাধ্যমে গণবণ্টন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ এবং কার্যকর করার একটি প্রচেষ্টা। এটি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক, ভারতীয় খাদ্য নিগম এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে। এই মডেলের মূল উদ্দেশ্য হল শস্য বিতরণ প্রক্রিয়া থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা শেষ করা এবং সুবিধা সরাসরি যোগ্য সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

'অন্নপূর্তি' মেশিন: এবার এটিএম থেকে মিলবে রেশন

অনুষ্ঠানের সময় 'অন্নপূর্তি' নামের একটি গ্রেন এটিএম-এরও উদ্বোধন করা হয়। এই মেশিনটি গুজরাটে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি রেশন বিতরণকে স্বয়ংক্রিয় করার দিকে একটি বড় পরীক্ষা। এই মেশিনের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের গম এবং চালের সাথে ১ কেজি অড়হর ডাল, ১ কেজি ছোলা, লবণ এবং চিনিও দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই ব্যবস্থাটি প্রযুক্তি এবং সামাজিক কল্যাণের একটি ভারসাম্যপূর্ণ উদাহরণ।

আগামী ৩-৪ বছরে দেশজুড়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

অমিত শাহ আস্থা প্রকাশ করেছেন যে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এই ডিজিটাল মডেলটি সারা দেশে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করা হবে। তিনি বলেন, 'এক দেশ, এক রেশন কার্ড'-এর পর এই পদক্ষেপ খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। ডিজিটাল সংযোগের বিস্তারের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে দেশের ১,০৭,০০০-এরও বেশি গ্রামে ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে, যার ফলে এই ধরনের ಯೋಜನೆগুলি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির উপর নিয়ন্ত্রণের দাবি

অনুষ্ঠানের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে বছরের পর বছর ধরে গণবণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব এবং দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থাটি আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক পরিচয় এবং ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর সাথে একযোগে কাজ করবে, যা বিতরণ প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত এবং নির্ভুল করে তুলবে।

সরকারের দাবি, এর ফলে সুবিধাভোগী তার हिस्सेর পুরো ৫ কেজি अनाज নিশ্চিতভাবে পাবেন এবং কোনো স্তরে কারচুপির সুযোগ কমে যাবে।

ডিজিটাল লেনদেনে ভারতের অগ্রগতি

অমিত শাহ তার ভাষণে আরও বলেন যে এক দশক আগে যেখানে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক কল্পনা করা কঠিন ছিল, সেখানে আজ বিশ্বের মোট ডিজিটাল লেনদেনের একটি বড় অংশ ভারতে হচ্ছে। CBDC-ভিত্তিক PDS-কে এই ডিজিটাল পরিবর্তনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মডেলের সাফল্য মূলত প্রযুক্তিগত শক্তি, নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণের উপর নির্ভর করবে। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেশিনগুলির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হবে। আপাতত গান্ধীনগর থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি একটি পাইলট মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী মাসগুলিতে এর ফলাফলই নির্ধারণ করবে যে ডিজিটাল কারেন্সি-ভিত্তিক রেশন বিতরণ ব্যবস্থা সারা দেশে কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়।