রবিবার জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে তিন জঙ্গি নিকেশ হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের (জেইএম) শীর্ষ কমান্ডার সইফুল্লা বালুচ।
রবিবার জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে তিন জঙ্গি নিকেশ হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের (জেইএম) শীর্ষ কমান্ডার সইফুল্লা বালুচ। সইফুল্লা বালুচের মাথার দাম ৫ লক্ষ টাকা ছিল। সে জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি ছিল। তিন জঙ্গি একটি যাযাবরদের কুঁড়েঘরে লুকিয়ে ছিল, সংঘর্ষের সময় সেখানে আগুন ধরে যায়। পরে তাদের পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর এই অভিযান সফল হওয়ার পিছনে একজনের অবদান রয়েছে। সে হল সেনা কুকুর টাইসন (Tyson)। অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে টাইসন এই জঙ্গি নিকেশ অভিযানে অবদান রাখে। পায়ে গুলি লেগে সে গুরুতর জখম হয়েছে। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২ প্যারা (বিশেষ বাহিনী) এর সঙ্গে জড়িত জার্মান শেফার্ড টাইসন ছাতরু শহরের দুর্গম ভূখণ্ডে জঙ্গিদের আস্তানায় হামাগুড়ি দিয়ে ঢোকে। টাইসনের উপস্থিতি টের পেয়েই জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। পায়ে গুলি লাগা সত্ত্বেও টাইসন এগিয়ে যায়। যার ফলে জওয়ানরা জঙ্গিদের গোপন আস্তানাটি সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারেন। এই অভিযানে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) এবং বিশেষ বাহিনী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সইফুল্লা গত দুই বছর ধরে লুকিয়ে ছিল। কমপক্ষে ২০ বার ধরা পড়ার হাত থেকে বেঁচে যায় সে। নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে দুটি AK-47 রাইফেল, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনা কর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গিরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লুকোচুরির খেলায় লিপ্ত ছিল। কিন্তু টাইসন সময়মতো তাদের আস্তানা শনাক্ত করার ফলে জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। টাইসনকে চিকিৎসার জন্য বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। টাইসনের সাহসিকতা আবারও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে প্রশিক্ষিত সেনা কুকুরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে।
