‘অপারেশন ত্রাশি-I’-এর আসল সত্যি! মাটির ঘরে লুকিয়ে থাকা ২ জঙ্গিকে কীভাবে খতম করল সেনা?
কিশতওয়ার এনকাউন্টার: চাট্রু জঙ্গলে ‘অপারেশন ত্রাশি-I’ কি শুধু একটি সংঘর্ষ, নাকি বড় জঙ্গি নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস? ২ জঙ্গি খতম, উদ্ধার AK-47। কিন্তু বিপদ কি এখনও কাটেনি? পাহাড়ে তল্লাশি অভিযান জারি, বাড়ছে রহস্য।

জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলা থেকে বড় খবর। এখানকার চাট্রু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী এক বড় অভিযানে দুই জঙ্গিকে খতম করেছে। কিন্তু চাট্রুর জঙ্গলে ঠিক কী ঘটেছিল যে সেনা, পুলিশ এবং CRPF-কে একসঙ্গে নামতে হল? আর কেনই বা ‘অপারেশন ত্রাশি-I’ শুরু করা হল?
রবিবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ নিরাপত্তা এজেন্সিগুলোর কাছে পাকা খবর আসে যে চাট্রু এলাকায় কয়েকজন জঙ্গি লুকিয়ে আছে। এই খবর পাওয়া মাত্রই সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং CRPF একটি যৌথ অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন ত্রাশি-I’। সূত্র অনুযায়ী, জঙ্গিরা একটি পাহাড়ের পাদদেশে তৈরি মাটির ঘরে লুকিয়েছিল। জওয়ানরা সেখানে পৌঁছতেই ভেতর থেকে গুলি চলতে শুরু করে। এরপর দু'পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুতি নিয়েই এলাকায় পৌঁছেছিল। সেনার হোয়াইট নাইট কোর (White Knight Corps) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ জানিয়েছে যে, ‘ট্যাকটিক্যাল পারফেকশন এবং দারুণ সমন্বয়ের’ সঙ্গে এই অপারেশন চালানো হয়েছে। এনকাউন্টারের সময় জওয়ানরা এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে জঙ্গিদের খতম করে। অপারেশনের পর ঘটনাস্থল থেকে দুটি AK-47 রাইফেল এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আপাতত এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে, যাতে আর কোনও জঙ্গি লুকিয়ে থাকতে না পারে।
গত মাসেও চাট্রুর জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং জঙ্গিদের মধ্যে বেশ কয়েকবার গুলির লড়াই হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, কিশতওয়ারের পাহাড়ি এবং ঘন জঙ্গল এলাকা কি জঙ্গিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে? নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো এখন এখানে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে, যাতে যে কোনও জঙ্গি কার্যকলাপকে গোড়া থেকে নির্মূল করা যায়।
‘অপারেশন ত্রাশি-I’-কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে কারণ এতে সেনা, পুলিশ এবং CRPF একসঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। উন্নতমানের ইন্টেলিজেন্স এবং গ্রাউন্ড কোঅর্ডিনেশনের কারণেই এই অপারেশন সফল হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর বক্তব্য, যারা শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করবে, তাদের রেয়াত করা হবে না। আগামী দিনে স্পষ্ট হবে এই অপারেশনের ফলে জঙ্গি নেটওয়ার্ক কতটা ধাক্কা খেল।

