হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন অনেকদিন আগেই। বিছানায় শুয়েও ছিল দেশ নিয়ে চিন্তা। নিজের শেষ ব্লগে সংসদের পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্য়া করেছিলেন প্রাক্তন মোদি মন্ত্রিসভার নম্বর টু।  কী বলেছিলেন দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী।
নিজের শেষ ব্লগের ছত্রে ছত্রে করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের প্রশংসা। ব্লগের শীর্ষক ছিল, 'অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ।' সংসদের এক মরশুমে ঐতিহাসিক ভুলকে শুধরে দেখালেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ৩৭০ ধারা ও তাৎক্ষণিক তিল তালাকের অবলুপ্তি ঘটিয়ে দেশকে ঠিক পথে চালনা করেছে বর্তমান সরকার। পাশাপাশি সন্ত্রাস দমনে আইনের হাতকে আরও শক্ত করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের মাধ্য়মে নিজেদের প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে বিজেপি। এর মাধ্য়মে দেখিয়ে দেওয়া গেছে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।

আরও পড়ুন :নোটবন্দি থেকে জিএসটি, রাফাল, মোদী সরকারের বিপদের বন্ধু ছিলেন জেটলি

আরও পড়ুন : প্রয়াত প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, শোকের ছায়া বলিউডেও
এখানেই শেষ নয়। ব্লগে জেটলি লিখেছেন, গত সাত দশক ধরে জম্মু-কাশ্মীরকে ভিন্ন তকমা দিয়ে দেশকে থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। এই ভিন্ন তকমার কারণে ভারতের সুযোগ নিচ্ছিল পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীর নিয়ে যে নতুন পথে হেঁটেছেন তাকে স্বাগত জানানো উচিত। মোদি-অমিত শাহের পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিয়েছে, কাশ্মীর নিয়ে শ্য়ামাপ্রসাদ মুখার্জির ভিশনই ঠিক ছিল। জওহরলাল নেহরু জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে যা স্বপ্ন দেখেছিলেন তা শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হল।
তবে মোদি-শাহকে প্রশংসার পাশাপাশি উপত্য়কার দুই দলের প্রধানকেও একহাত নিয়েছিলেন জেটলি। মেহবুবা মুফতির পিডিপি ও অমর আবদুল্লার ন্য়াশনাল কনফারেন্সের  সমালোচনা করেন এই বিজেপি নেতা। ব্লগে জেটলি লেখেন,এই দুই দলের প্রধানরা দিল্লিতে এসে কাশ্মীর নিয়ে এক কথা বলেন, কাশ্মীরে গিয়েই ভোল বদলে যায় তাঁদের। উপত্য়কায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দেন তাঁরা। যে কারণে আজ জম্মু-কাশ্মীরে সমর্থন হারিয়েছে এই দুই দল।

আরও পড়ুন : চলে গেলেন জেটলি, রেখে গেলেন ১১ মাইলস্টোন

আরও পড়ুন : দলীয় রাজনীতির বাইরে এক অন্য অরুণ, একজন 'আল্টিমেট ব্যাকরুম স্ট্র্যাটেজিস্ট'
শনিবার সকাল ১২ টায় শেষ নিশ্বাস ত্য়াগ করেছেন অরুণ জেটলি। মারা যাওয়ার পর জেটলিকে নিয়ে টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিদায়ী টুইটে মোদি লিখেছেন,একজন ভালো বন্ধুকে হারালাম। আপনি নিজে ভালে থেকেছেন, আমাদের ভালো রেখে গেছেন। দেশের শ্রীবৃদ্ধিতে জেটলিরর অবদান যে অনস্বীকার্য।