অরুণাচল প্রদেশের কেই পানইয়র জেলায় হড়পা বানের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে একটি ভেরিফিকেশন কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ব্যাপক ভূমিধসের ফলে ভারত-চীন সীমান্তের কাছের এলাকাসহ সাতটি জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
অরুণাচল প্রদেশের কেই পানইয়র জেলার পোসা গ্রামে সাম্প্রতিক হড়পা বানে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে রবিবার জেলা প্রশাসন একটি ভেরিফিকেশন কমিটি তৈরি করেছে।

কেই পানইয়র জেলার ডেপুটি কমিশনারের অফিস থেকে জারি করা একটি আদেশ অনুযায়ী, এই কমিটি অবিলম্বে কাজ শুরু করবে। কমিটির মাথায় থাকবেন ইয়াচুলির অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার (ADC)। এছাড়া সদস্য হিসেবে থাকছেন ইয়াজালির সার্কেল অফিসার (CO), জলসম্পদ বিভাগ (WRD) এবং নগরোন্নয়ন (UD) বিভাগের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক (DDMO) এবং সংশ্লিষ্ট গ্রামের প্রধান বা NEEPCO-র প্রোজেক্ট প্রধান (HoP)। কমিটিকে ২৯ জুন সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডেপুটি কমিশনারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের প্রভাব
কেই পানইয়র জেলার পোসা গ্রামে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে হড়পা বান ও ব্যাপক ভূমিধস হয়। এর ফলে NEEPCO কলোনির ১৮টি আবাসনসহ প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছিল।
সড়ক যোগাযোগে মারাত্মক প্রভাব
এই দুর্যোগের পর রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা बुरीভাবে ভেঙে পড়েছে। ভারত-চীন সীমান্তের কাছের এলাকাসহ সাতটি জেলার সঙ্গে একাধিক রুটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে কিমিন-পোতিন রোড আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
অবিরাম বর্ষার কারণে ব্যাপক ভূমিধস, হড়পা বান এবং রাস্তা ধুয়ে যাওয়ার ফলে মধ্য ও উচ্চ অরুণাচলকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ হোজ-পোতিন রোড (NH-13/NH-713A) পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে কেই পানইয়র, লোয়ার সুবনসিরি, কুরুং কুমে, ক্রা দাদি, কামলে, আপার সুবনসিরি এবং পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর জেরে সাধারণ মানুষ ও জরুরি পণ্য পরিবহণে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন হোজ-পোতিন সড়ক বরাবর সমস্ত অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ এখানকার মাটি এখনও খুব অস্থির এবং নতুন করে ধসের ঝুঁকি রয়েছে।


