শনিবার সকাল ৮টা থেকে দিল্লিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দিল্লির ভোটে এবার প্রথম থেকেই ধর্মীয় মেরুককরণের তাস খেলতে শুরু করেছিল বিজেপি। তারপর তাতে যোগ দিয়েছিল আপ-এ। ভোটগ্রহণের দিন-ও সেই রাজনীতির স্বার্থে ধর্মীয় প্রতিযোগিতা অব্যাহত রইল। বলা ভালো হনুমান-এর শুদ্ধি-অশুদ্ধি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হল নির্বাচনের দিন।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। ভোটের আগেরদিন বিকেলে আপ-প্রধানকে দেখা যায় দিল্লির হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে। আর বিজেপির দিল্লির সভাপতি মনোজ তিওয়ারি গিয়েছিলেন কালিকা মন্দিরে। শনিবার সকালে মনোজ তিওয়ারি অভিযোগ করেছেন, পুজো দিতে গিয়ে 'হনুমানজিকে অশুদ্ধ' করে দিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনোজ বলেন, 'উনি (অরবিন্দ কেজরিওয়াল) পূজা করতে গিয়েছিলেন না হনুমান জি-কে অশুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন?' তাঁর অভিযোগ কেজরিওয়াল যে হাত দিয়ে জুতো খুলেছেন, ওই একই হাত দিয়ে হনুমান-কে মালা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নকল ভক্ত হলে এরকমই হয়। এমনকী, ওই মন্দিরের পুরোহিতের তাঁর কথা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, কেজরিওয়াল ফিরে আসার পর হনুমান-এর মূর্তিটিকে অনেকবার ধোয়া হয়েছে।

তাঁর এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই মুখ বুজে মেনে নেয়নি আপ। সাংসদ সঞ্জয় সিং বলেছেন, বিজেপি কি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে এতটাই অচ্ছুত হিসাবে দেখে?  মনোজের মন্তব্যে বিজেপির নীচতাই ধরা পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিজেপি এখনও সেই যুগেই পড়ে রয়েছে, যখন দলিতদের মন্দিরে প্রবেশাধিকার ছিল না। সঞ্জয় সিং-এর মতে, এই মনোভাব নিয়ে চললে 'শ্রী রাম-ও এখন বিজেপি-কে বাঁচাতে পারবে না'।

দিল্লির নির্বাচন-কে ভারত-পাক যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা থেকে শুরু করে, শাহিনবাগের প্রতিবাদীদের গদ্দার বলে তাদের উপর গুলি ছোঁড়ার হুমকি স্লোগান তোলা - একেবারে শুরু থেকেই মেরুকরণের রাজনীতির পথে হেঁটেছিল বিজেপি। তারপর তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাল্টা 'সফট হিন্দুত্ব'-এর পতে হাঁটে আম আদমি পার্টি-ও। দলীয় প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে হনমান চল্লিশা পাঠ করেছিলেন। সেই ধর্মীয় প্রতিযোগিতার জল ভোটের দিনেও গড়ালো।